২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত “জনতার ইশতেহার” দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। সংগঠনটি বলছে, এটি কেবল একটি নির্বাচনী অঙ্গীকারনামা নয়; বরং একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক ও ইনসাফনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা, যা বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।
আগামীকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহারের মোড়ক উন্মোচন করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে দলটি।
জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের মতে, “জনতার ইশতেহার” মূলত একটি জ্ঞানভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের রোডম্যাপ, যেখানে সুশাসন, অর্থনীতি, শিক্ষা, নারী অধিকার, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। অর্থনীতিতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পরিকল্পনার পাশাপাশি তরুণদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিং বিপ্লবের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া নারী নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ জোরদার, বিশ্বের বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এবং ৬৪ জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।
প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতির অংশ হিসেবে জামায়াত প্রথমবারের মতো “জনতার ইশতেহার” নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করছে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি ইশতেহার পড়া, মতামত প্রদান এবং ভিডিও ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে নীতিগুলো জানার সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইশতেহারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের একটি ধর্মভিত্তিক দল থেকে বেরিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। জনসম্পৃক্ততা ও প্রযুক্তিনির্ভর এই রূপরেখা আগামী নির্বাচনে ভোটারদের আচরণে কতটা প্রভাব ফেলবেÑসেদিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই এবারের ইশতেহার সাজানো হয়েছে, যেখানে জনতার ইশতেহার নামে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণাও চালানো হয়েছিল। সেখানে আসা ৩৭ লাখের বেশি পরামর্শের প্রতিফলন থাকবে ইশতেহারে।