সম্প্রতি মোশাররফ হোসেন ঠাকুর নামক জনৈক ব্যক্তির মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক ‘নিকাব’ নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, ইতিহাস-বিকৃত এবং অজ্ঞতাপ্রসূত বক্তব্যে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘নারী অধিকার আন্দোলন’। সংগঠনের সভানেত্রী মমতাজ মাননান এক বিবৃতিতে এই কাণ্ডজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিবাদ জানানো হয়:
প্রথমত: তাঁর বক্তব্যে সরাসরি ধর্মীয় বিধানের অবমাননা করা হয়েছে। নিকাব বা পর্দা মুসলিম নারীদের জন্য একটি ধর্মীয় ইবাদত ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে স্বীকৃত। একে কোনো নেতিবাচক বা নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সাথে তুলনা করা সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল।
দ্বিতীয়ত: জনাব মোশাররফ হোসেন ঠাকুরের বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে, ধর্মীয় ইতিহাস ও বিধান সম্পর্কে তাঁর সঠিক ধারণা নেই। প্রাচীনকালে নারীদের পর্দা ও নিকাবের ব্যবহার ছিল নিরাপত্তা, শালীনতা ও আভিজাত্যের প্রতীক। ইহুদি নারীদের নিকাব ব্যবহার সংক্রান্ত তাঁর মন্তব্যটি ইতিহাস বিকৃতির নামান্তর। ইসলামে পর্দার বিধান মূলত নারী জাতির সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রবর্তিত হয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।
তৃতীয়ত: এ ধরনের বক্তব্য ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। পর্দানশীন নারীদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এটি নারীদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
চতুর্থত: এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। কোনো সুস্থ চিন্তার মানুষ এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য করতে পারেন না।
‘নারী অধিকার আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাঁর এই ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।