নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও সোনারগাঁ সংবাদদাতা : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার প্রতারণায় নেমেছে। ৭০% মানুষের গণরায়কে অস্বীকার করছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১২- ১৩টি অধ্যাদেশ তারা বাতিল করতে চায়। জনগণ তাদের টালবাহানা বুঝতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য ( রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মমিনুল হক সরকারের সভাপতিত্বে ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিদ সদস্য ( রুকন) সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আব্দুল জাব্বার, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মোঃ মুন্না, তারবিয়াত সেক্রেটারি অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের অন্যান্য বিভাগের দায়িত্বশীলবৃন্দ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ৫ শতাধিক সদস্য (রুকন) দায়িত্বশীলবৃন্দ।

মাওলানা আব্দুল হালিম আরো বলেন, এই বারের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বোনেরা ঈর্ষনীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের শোকরগোজার হতে হবে। ১৯৪১ সালে ২৬ আগস্ট মাত্র ৭৫ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গঠিত হয়। কিন্তু আজকে আপনাদের নারায়ণগঞ্জেই কয়েকশত রুকন রয়েছেন। এখন মানুষ স্বপ্ন দেখে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাবে। জেল- জুলুম জামায়াতে ইসলামী কে এগিয়ে দিয়েছে। যারা জামায়াতে ইসলামী কে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিলো তারা দুপুরের ভাত না খেয়ে পালিয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার প্রতারণায় নেমেছে। ৭০% মানুষের গণরায়কে অস্বীকার করছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১২- ১৩টি জাতীয় অধ্যাদেশ তারা বাতিল করতে চায়। জনগণ আপনাদের টালবাহানা বুঝতে পেরেছে। ১৯৯১ সালে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে আপনারা ক্ষমতায় এসেছিলেন। আবার ১৯৯৬ সালে কেয়ারটেকার সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। এখন আপনারা কাদের খুশি করার জন্য জনগণের রায়কে বাস্তবায়ন করতে চান না। জনগণ আপনাদের এই অভিপ্রায় মেনে নিবে না।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, অতীতে আমরা অনেক নির্বাচন করেছি সেগুলো কোন নির্বাচন ছিলো না। এইবার আমরা একটা ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন করেছি। আমাদের সেক্রেটারি জেনারেলের ভোট ছিনতাই হয়েছে। আমাদের উপর অনেক অত্যাচার জুলুম হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব আমাদের বুঝে নিতে হবে। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব বুঝে নিতে না পারি আল্লাহ আমদের দায়িত্ব দিবেন না।

মাওলানা আব্দুল জাব্বার বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষ আশা করে রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ ভাবে মেরামত হবে কিন্তু রাষ্ট্র কি মেরামত হয়েছে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য আবার দায়িত্ব নিতে হবে। তারা বলেছিল হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। এখন তারা পার্শ্ববর্তী দেশের কথা রাখতে গিয়ে তা করেত পারছে না।

মমিনুল হক সরকার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ও সুশৃঙ্খল দল। সাংগঠনিক সুশৃঙ্খলায় আরো মজবুতি অর্জন করতে হবে। আমরা অতীতেও বাতিলের সাথে আপোস করিনি আর ভবিষ্যৎতে ও বাতিলের সাথে আপোষ করবো না।