সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে দুই প্রার্থীর বেলায় দুই ধরনের নীতি অবলম্বন করায় পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন সিলেট-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী এহতেশাম হক। গতকাল মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।
গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে এহতেশাম হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
একই বিষয়ে সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ মালিকের মনোনয়নপত্র শর্তস্বাপেক্ষে বৈধ ঘোষণা করা হয়। যাকে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন এনসিপি প্রার্থী এহতেশাম হক। তিনি এ বিষয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এনসিপি প্রার্থী এহতেশাম অভিযোগ করেনÑ ‘সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী’র প্রতি আমলাতন্ত্র নুয়ে পড়েছে। এই আমলাতন্ত্র কীভাবে সারাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবেÑ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এনসিপির এই নেতা।
লিখিত বক্তব্যে এহতেশাম হক বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় যাবতীয় কাগজপত্রসহ আমার মনোনয়নপত্র জমা দিই। পরবর্তীতে রিটার্নিং অফিসার সারোয়ার আলম আমার এবং অন্যান্য আরো কিছূ প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে বলে তাঁকে অবহিত করেছি যে, যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ক্রিসমাস ও নববর্ষ উপলক্ষে বন্ধ থাকায় একদিনের মধ্যে “গৃহীত হয়েছে” মর্মে কোনো চিঠি সংগ্রহ করা আমার পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। এই ধরনের কোনো কাগজ দাখিল করতে হবে বলে মনোনয়ন ফর্মে পূর্বে কোনো উল্লেখ ছিল না। এই বিষয়ে আমি লিখিতভাবেও তাঁকে অবহিত করি এবং তাঁর সদয় বিবেচনার জন্য আবেদন জানাই।
এনসিপির এই প্রার্থী আরও জানান, ৪ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসার স্থগিত থাকা মনোনয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। আমার ক্ষেত্রে বলা হয়-‘প্রাপার কাগজপত্র’ জমা না দেওয়ার কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হলো।’ এর পরপরই সিলেট-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের (এমএ মালেক) বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে উল্লেখ করেন-‘হোম অফিস বন্ধ থাকায় এবং আজ (৪ জানুয়ারি) শেষ তারিখ হওয়ায় তাঁর আবেদন কনডিশনালি গ্রহণ করা হলো।’
এহতেশাম হক বলেন, যদিও আমার জমা দেওয়া কাগজ এবং অন্যান্য প্রার্থীর জমা দেওয়া কাগজের আইনগত কোনো তফাৎ নেই। যেহেতু রিটার্নিং অফিসারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য হোম অফিস থেকে কোনো উত্তর ছুটিকালীন সময়ে পেতে পারেননি।
একই বিষয়ে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমার ক্ষেত্রেও কন্ডিশোনালি সুযোগ দেওয়া যেত।
তিনি বলেন, এই দ্বৈত মানদণ্ড ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের ভুক্তভোগী হিসেবে আমি হয়তো একজন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মী। বাস্তবতা হলোÑ এই রাষ্ট্রের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ঠিক এই ধরনের বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের শিকার হন।