দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার শপথের পর প্রথমে নতুন সরকারের মন্ত্রী এবং পরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলো। একই সঙ্গে প্রায় দুই যুগ পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরু হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়। বিএনপি জোটের শরিকরা ৩টি আসন পায়। বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে গতকাল সকালে একই স্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়।

তারেক রহমান সংসদ নেতা : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এয়োদশ জাতীয় সংসদের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংসদীয় দলের বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, এটা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত যে দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়া, সংসদকে অকার্যকর করা, এই পর্বের পরে জনগণের অনেক রক্তের বিনিময়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি সংসদ পেয়েছি। এই সংসদের মধ্য দিয়ে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে আমাদের তরুণ নেতা তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছি। আমরা আশাবাদী তার নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমাদের প্রথম এই সংসদীয় দলের সভাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বিএনপির সংসদ সদস্য তারা ডিউটি ফ্রি কোনো গাড়ি নেবেন না এবং কোনো প্লটও নেয়া হবে না সরকারের কাছ থেকে, এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।

শপথ অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন : বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা। এছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রসচিবসহ নানা পর্যায়ের অতিথি যোগ দেন।

সূত্র জানিয়েছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানসহ ১৪টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জো, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা, তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি এবং ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি প্রমুখ। আমন্ত্রিত ১৪ দেশের মধ্যে ছয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা। এসব দেশ হলো চীন, জাপান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও মালয়েশিয়া। এছাড়া ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাদের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানস্থলে তারেক রহমান : তারেক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখা গেছে।

শপথ কার্যক্রম : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। এরপরই তিনি শপথ অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। এরপর পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।

মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। জোটের অপর শরীক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। টেকনোক্র্যাট তিনজন।

এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আছে অনেক, যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেওয়া নেতাও আছেন। মন্ত্রীদের ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২৪ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।

প্রথমবার মন্ত্রী হলেন যারা : তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী), এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আব্দুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং শেখ রবিউল আলম।

প্রথমবার প্রতিমন্ত্রী হলেন যারা : এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরী, ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে মানুষের ঢল : জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশ বিভিন্নস্থান থেকে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ জড়ো হয়েছেন। গতকাল দুপুরের পর থেকেই দেখা যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্নস্থান থেকে স্লোগান নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে জড়ো হন। অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষজনও জড়ো হন। এ সময় আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মানিক মিয়া এভিনিউ সড়ক থেকে শপথ অনুষ্ঠান দেখার জন্য রাখা হয় বেশ কয়েকটি ডিজিটাল ডিসপ্লে ও সাউন্ড বক্স। অন্যদিকে সড়কের আরেক প্রান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো হয় পৃথক মঞ্চ। শপথ অনুষ্ঠান দেখতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করেছি, বিএনপি আজ সরকারের শপথ নিবে তাই দেখতে এসেছি। আমি আশা করি আমাদের প্রত্যাশিত কাজগুলো করবো বিএনপি। মানুষের কথা ভাববে। এবং একটি সুন্দর দেশ তৈরি করবে। গাজীপুর থেকে আসা আলী হোসেন বলেন, আমরা আজ অনেক আনন্দিত বিএনপি সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

শান্তি ও স্বস্তি চায় মানুষ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। সেখানেই কথা হলে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ জানিয়েছেন, নতুন সরকার ও মন্ত্রিপরিষদের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক। মন্ত্রিপরিষদের কাছে সুখ, শান্তি ও স্বস্তি চায় সাধারণ মানুষ। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান তারা। মানুষের মৌলিক অধিকার যাতে কেউ হরণ করতে না পারেন চান সেই নিশ্চয়তা।

ফেনী থেকে এসেছেন আহসান হাবিব কাওছার। তার এলাকার এমপি মন্ত্রী হচ্ছেন, তাই তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিপরিষদের কাছে আমাদের একটিই চাওয়া নতুন বাংলাদেশ যেন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত হয়। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যাতে গণহারে মামলা-হামলা না হয়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক মানুষ যাতে তার মৌলিক অধিকার ফিরে পায় আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই।

শিক্ষার্থী মিলন বলেন, নতুন মন্ত্রিপরিষদ যেন আমাদের শিক্ষাখাতে মনোযোগ দেয়। শিক্ষাখাতকে যেন ঢেলে সাজান। যশোর থেকে এসেছেন মুসাদ্দেক। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদের কাছে প্রত্যাশা দেশ যাতে ভালোভাবে চলে। দেশটা যেন সুখে শান্তিতে থাকে, সব মানুষ যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এটিই আমার প্রত্যাশা। অর্থনীতি যাতে ভালো চলে এবং পে-স্কেল যেন বাস্তবায়ন করে এটিও আমাদের প্রত্যাশা।

নতুন অধ্যায়ের সূচনা : তখনও শেষ বিকেলের অস্তগামী সূর্যের নরম আলো গায়ে লাগছে না। মঞ্চে তখন নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা একে একে স্ব স্ব পদের এবং গোপনীয়তার শপথ পাঠ করছেন। এই শপথের মধ্য দিয়ে সংসদের খোলা প্রান্তরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। উপস্থিত সবাই বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের এই বিকেলের সাক্ষী হন। দুপুর গড়াতেই দক্ষিণ প্লাজা ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার বলয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রবেশপথে কড়া তল্লাশি, সারিবদ্ধ ব্যারিকেড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতিÑসব কিছুই জানান দিচ্ছিল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের এক আয়োজনের। আমন্ত্রিত অতিথিরা আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা ধীরে ধীরে পূর্ণ করেন নির্ধারিত আসন। মঞ্চের সামনে সারিবদ্ধ চেয়ারগুলো নিখুঁতভাবে সাজানো। মিডিয়ার জন্য আলাদা কর্নার, ক্যামেরা সেটআপ, লাইভ সম্প্রচারের প্রস্তুতি, প্রতিটি খুঁটিনাটিতে ছিল ব্যস্ততা, তবে কোথাও বিশৃঙ্খলা নয় বরং সুপরিকল্পিত এক নীরব ছন্দ। দক্ষিণ প্লাজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মানুষের চোখে কৌতূহল, কারও চোখে প্রত্যাশা। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আলোচনা করছেন নতুন সরকারের সম্ভাব্য অগ্রাধিকার নিয়ে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হলেও আবহে ছিল জনমানুষের এক অদৃশ্য অংশগ্রহণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন নতুন সময়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার ভৌগোলিক রূপান্তরের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতীকবাদেরও ইঙ্গিত দেয়। এই খোলা প্রান্তর, এই মঞ্চ, এই বিকেল, সাক্ষী হয়ে থাকবে রাষ্ট্রের ক্ষমতার আরেকটি নতুন সূচনার।