এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড.অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন,আল্লাহ তায়ালা জনগণকে নেতা বাছাই করার ক্ষমতা দিয়েছেন। যদি অসৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তাহলে জনগণকে পাঁচ বছর তার খেসারত দিতে হয়। তাই মানবতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেয়া জরুরি। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের মতো একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই ঈমানদার, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং মহেশখালী-কুতুবদিয়া ও মাতারবাড়ির স্বার্থ রক্ষায় ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করতে হবে।

শনিবার কক্সবাজরের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানকের টাইমবাজারে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এলডিপির চেয়ারম্যান বলেন, প্রকৃত ধার্মিকদের হাতে কখনো কোনো অমুসলিম ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। মুসলমান হিসেবে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, আমাদের বৈজ্ঞানিক যুগে প্রবেশ করতে হলে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও যুবকদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইসলাম অমুসলিমদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। নবীজি (সা.)-এর শাসনামলে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করেছে ,এটাই ইসলামের শিক্ষা। তিনি বলেন ফোর পিলার ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজির আওতায় মহেশখালী বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। মিডার মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দরও গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। এই বন্দর বাস্তবায়িত হলে কম খরচে ও কম সময়ে পণ্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, ফলে নিত্যপণ্যের দাম কমবে এবং জীবনমান উন্নত হবে।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ট্রানশিপমেন্ট পোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাবও বাড়বে। তিনি বলেন, সৎ নেতৃত্ব থাকলে জনগণের ভাগ্য বদলায়,আর দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়। নিকট অতীতে যার দৃষ্টান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, মহেশখালীর সব মেগা প্রকল্প পরিবেশবান্ধব উপায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর হতে দেয়া হবে না।

ফোর পিলার ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে এখানে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে এবং প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে স্থানীয় মানুষ উচ্ছেদ হলেও নিজ ভূমিতে গড়ে ওঠা প্রকল্পে চাকরি পাচ্ছে না।

তিনি জানান, তিনি মিডার চেয়ারম্যানকে স্পষ্টভাবে বলেছেন সব প্রকল্পে স্থানীয় জনগণকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। এজন্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হবে, যাতে এখানকার সন্তানরা দেশ ও দেশের বাইরে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাও গুরুত্ব পাবে।