পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে কাতার চ্যারিটির অর্থায়নে নির্মিতব্য ছাত্রাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি পাবনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থীর সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যানারে লেখা ছিল “এবি ট্রাস্টের উদ্যোগে ও কাতার চ্যারিটির অর্থায়নে”,নির্মিত হবে ছাত্রাবাস, কাতার চ্যারিটিতে হোস্টেল নির্মাণের আবেদন করেছিল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবি টাস্ট এর চেয়ারম্যান হওয়ায় তার নির্বাচনী সুবিধা কল্পে এবি ট্রাস্ট এর উদ্যোগ লেখা হয়, প্রকৃত অর্থে কলেজের উদ্যোগকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আড়াল করা হয়। কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল মিয়া সরকারি কলেজে কোন সংস্থা কর্তৃক নির্মাণ কাজের অনুমতির আবেদন করলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কাতার চ্যারিটির মাধ্যমে ছাত্রাবাস নির্মাণের অনুমতি প্রদান করে।

উদ্বোধনী ভিত্তিপ্রস্তরের অনুষ্ঠানে প্রকল্পের মূল দায়িত্বশীলদের উপস্থিতি ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে। কাতার চ্যারিটির কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। কাতার চারিটির এত বড় উন্নয়নমূলক প্রোগ্রামে তাদের কোন দায়িত্বশীলকে রাখা হয়নি। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কাতার চ্যারিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়। এটি নির্বাচনী প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে বর্তমান অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বিভিন্ন মহলের দাবি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি মূল উদ্দেশ্য—ছাত্রাবাস নির্মাণ প্রকল্পের স্বীকৃতি—প্রদর্শন না করে, নির্বাচনী প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানে তার চলাফেরা ও উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে

অনুষ্ঠানে বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিল ব্যাপক । এটি প্রমাণ করে, সরকারি কর্মকর্তার পদক্ষেপ প্রার্থীর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত ।

নির্বাচন কমিশনের সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি ২০২৪–২৫ অনুযায়ী:

সরকারি সম্পদ, প্রকল্প বা সুযোগ কোনও প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারি কর্মকর্তার পদক্ষেপ প্রার্থীকে নির্বাচনী সুবিধা দিলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন।

এমন লঙ্ঘন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করে।অভিজ্ঞ মহলের ধারণা

এ ধরনের উদ্যোগ ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থা কমাতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান জানান বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমান সুমন বিশ্বাসকে আমি দাওয়াত করিনি তিনি যদি এসে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন তাহলে আমার কোন কিছু করার নেই। আমি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোন প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার কোন কিছু করি নাই।

এদিকে পাবনা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ:

পাবনা-৫ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জামায়াতের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সদস্য জীবন মাহমুদ।

পাবনা-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও একই কারণে সরকারী এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে- নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকারের উন্নয়ণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং কোনো প্রার্থী/দল/প্রার্থীর পক্ষে কোনো ব্যক্তি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন,ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, অনুদান প্রদান করতে পারবে না। কিন্তু, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে 'কাতার চ্যারিটি'র অর্থায়নে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ছাত্রাবাসের ভিত্তি প্রস্তর আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্থাপন করা হয়। সেখানে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির ধারা ৪ এর উপধারা (১), (৩) ও (৪) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়াও, নির্বাচনের পূর্বে শুধু একটি রাজনৈতিক পক্ষকে নিয়ে এধরনের সমাবেশ ও অনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফর রহমানে বিরুদ্ধে।

এবিষয়ে পাবনা-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে পাবনা-৫ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আমরা আমাদের প্রসিডিউর মেনে অবশ্যই পদক্ষেপ নিচ্ছি। পদক্ষেপ নেওয়ার পর অবশ্যই আপনারা (সাংবাদিক) জানতে পারবেন।