চট্টগ্রামের ঈদবাজারে এবার ভারতীয় পোশাকের ব্যাপক আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নগরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মার্কেটে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় ও অন্যান্য বিদেশী পোশাকের সয়লাব দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে থাকা ভারতীয় পোশাকের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে-কিছু সীমান্তপথে চোরাইভাবে, আবার কিছু শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি ঈদ মৌসুমে চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রির জন্য থাকা পোশাকের প্রায় ৫০ শতাংশই ভারতীয়। বিশেষ করে পাইকারি বাজারগুলোতে এই আধিপত্য আরও বেশি স্পষ্ট।
টেরিবাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রভাব
নগরের ঐতিহ্যবাহী পাইকারি কেন্দ্র টেরিবাজার-এ প্রায় দুই হাজারের মতো দোকান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব দোকানের ৯০ শতাংশেরও বেশি পণ্য ভারত থেকে আমদানিকৃত বা ভারতীয় ডিজাইনের। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এ বাজারে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকাররা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা টেরিবাজারে এসে পাইকারি দামে পোশাক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এখানে যে ধরনের পোশাকের চাহিদা তৈরি হয়, তার প্রভাব সারাদেশের বাজারেও পড়ে।
তরুণীদের পছন্দে ভারতীয় ডিজাইন
ঈদকে ঘিরে নারীদের পোশাকেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ভারতীয় লং ড্রেস, গাউন, গারারা, থ্রি-পিস, শাড়ি ও লেহেঙ্গা। নতুন ডিজাইন, উজ্জ্বল রঙ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কারণে এসব পোশাকের প্রতি আগ্রহ বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ক্রেতাদের অনেকে বলছেন, দাম কিছুটা বেশি হলেও ডিজাইন ও ফিনিশিংয়ের কারণে ভারতীয় পোশাকের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। বিশেষ করে ঈদে আলাদা ও আকর্ষণীয় পোশাক পরার আগ্রহ থেকেই এই চাহিদা তৈরি হয়েছে।
অভিজাত শপিংমলে ব্র্যান্ডের কদর
নগরের অভিজাত শপিংমলগুলোতেও বিদেশী ও ভারতীয় ব্র্যান্ডের পোশাকের চাহিদা চোখে পড়ার মতো। সানমার শপিং কমপ্লেক্স, আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট এবং ফিনলে স্কয়ার-এর মতো শপিংমলগুলোতে দেশীয় ও বিদেশী ব্র্যান্ডের মিশ্র উপস্থিতি থাকলেও ভারতীয় ডিজাইনের পোশাকের বিক্রি বেশি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।
তবে এসব মার্কেটে উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা চাপ অনুভূত হচ্ছে। অনেকেই বাজেটের মধ্যে ভালো মানের পোশাক খুঁজছেন।
মূল্যবৃদ্ধি ও দেশীয় পোশাকের চ্যালেঞ্জ
কিছু ক্রেতা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছেন। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, আমদানি খরচ, পরিবহন ব্যয় ও বাজার চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের অভিযোগ, বিদেশী পণ্যের অবাধ প্রবেশ ও অবৈধ আমদানির কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যদিও কিছু ক্ষেত্রে দেশীয় পোশাকের চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তবুও সার্বিকভাবে বিদেশী পণ্যের আধিপত্যই চট্টগ্রামের ঈদবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া না গেলে ভবিষ্যতে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আরও চাপে পড়তে পারেন।
ঈদকে ঘিরে জমজমাট এই বাজারে এখন ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে প্রতিদিনই। তবে বাজারের এই প্রবণতা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে-সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।