জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন। বক্তৃতাকালে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে ঢলে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল সোমবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র ও ১ কন্যাসহ বহু আত্মীয়স্বজন রেখে গিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯:০০টায় হাউসিং ডি ব্লক, চান্দা গাড়া ঈদগাহ ময়দানে ১ম জানাযা এবং বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর ফুটবল মাঠে ২য় জানাযা শেষে তাকে মিরপুর ওয়াপদা কবরস্থানে দাফন করা হবে।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী মুফতি আমীর হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন জেলা জামায়াত আমীর। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ ডা. মান্নান হার্ট এন্ড জেনারেল হসপিটালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হসপিটালের চিকিৎসক ডা. আব্দুল মোমিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাওলানা আবুল হাশেম পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। এদিকে জেলা জামায়াত আমীরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে বিক্ষোভ সমাবেশটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হক বলেন, ‘আমীর হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পৌরসভা চত্বর থেকে সদর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।’ মিছিলটি শহরের এনএস রোড প্রদক্ষিণ করে একতারা মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এ সময় তাকে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন বলে জানান জামায়াতের এই নেতা। ডা. মান্নান হার্ট এন্ড জেনারেল হসপিটালের চিকিৎসক ডা. আব্দুল মোমেন বলেন, ‘হসপিটালে আসার আগেই আমীর সাহেবের মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং মৃত্যুর কারণটি এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’ এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

জামায়াত আমীরের শোক

অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম-এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শোকবাণী প্রদান করেছেন। শোকবাণীতে তিনি বলেন, অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম একজন আদর্শবান, নিষ্ঠাবান ও সংগ্রামী ইসলামী ব্যক্তিত্ব। দ্বীনের পথে তার অবদান, ত্যাগ ও নেতৃত্ব সংগঠনের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দ্বীনের কাজে নিয়োজিত থেকে দুনিয়ার সফর শেষ করলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। তার ইন্তিকালে আমরা ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ দাঈকে হারালাম। তিনি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রচার ও প্রসারে তার অনেক অবদান রয়েছে। আমি তার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। শোকবাণীতে তিনি আরও বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাকে ক্ষমা ও রহম করুন এবং তার কবরকে প্রশস্ত করুন। তার গুনাহখাতাগুলোকে ক্ষমা করে দিয়ে নেকিতে পরিণত করুন। কবর থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রত্যেকটি মঞ্জিলকে তার জন্য সহজ, আরামদায়ক ও কল্যাণময় করে দিন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করুন এবং তার শোকাহত পরিবার-পরিজনদেরকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।