রমযান মাসে রোজাদারদের ইফতারির টেবিলে অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজলভ্য উপকরণ হলো মুড়ি। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনির সঙ্গে মুড়ি ছাড়া ইফতার যেন অপূর্ণই থেকে যায়। তবে এই বহুল ব্যবহৃত খাদ্যপণ্যটি ঘিরে সম্প্রতি জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অতি মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মুড়ি উৎপাদনে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু উৎপাদক মুড়ি ফুটানোর সময় চালের সঙ্গে সারের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে থাকে। এসব রাসায়নিক মূলত দ্রুত ফোলানো, রং উজ্জ্বল করা বা ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ কমিয়ে বেশি লাভবান হওয়া গেলেও ভোক্তাদের জন্য তা হয়ে উঠছে নীরব হুমকি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে এ ধরনের অননুমোদিত রাসায়নিক মেশানো হলে তা মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত এমন মুড়ি খেলে পেটের পীড়া, আলসার, লিভার ও কিডনির জটিলতা এমনকি ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য রোগও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, খাদ্য উৎপাদনে নির্ধারিত মান বজায় রাখা এবং অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তদারকির ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে কিছু অসাধু চক্র বাজারে নি¤œমানের ও ভেজাল মুড়ি সরবরাহ করছে। রমযানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের অনিয়মও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকা- রোধ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে- অস্বাভাবিক উজ্জ্বল সাদা বা অতিরিক্ত ফুলে ওঠা মুড়ি কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। রমযানের পবিত্রতা ও সুস্থতা বজায় রাখতে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
ক্যাব (কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা মুড়িতে সার মেশান- এটা দীর্ঘ দিনের অভিযোগ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গুলোর উদাসীনতায় ভেজালকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। ভেজাল রোধ, ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সার মেশানো মুড়ি মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সার মেশানো মুড়ি খেলে মানুষের শরীরে ক্যান্সারসহ দুরারোগ্য বিভিন্ন রোগ ব্যাধি হতে পারে। সার মেশানো মুড়ি খাওয়া থেকে মানুষের বিরত থাকা উচিৎ বলে তিনি জানিয়েছেন।