বেইজিং-এ বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।

সম্প্রতি বেইজিং-এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় একটি হোটেলে কূটনৈতিক সংবর্ধনাসহ বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চাইনিজ পিপলস এসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশীপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলো।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হচ্ছে।

bd-china-baijing-

বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানগণ শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করেছেন। শুভেচ্ছা বার্তায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।

দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চীনের ১৪তম ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লুওসাং জিয়াংছুন প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

এছাড়া চাইনিজ পিপলস এসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশীপউইথ ফরেন কান্ট্রিজ-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট লু সিয়াংদং, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সিপিসি কমিটির সদস্য এবং সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী লিউ বিন এবং কেন্দ্রীয় মিলিটারী কমিশনের ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারী কো-অপারেশন অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর মেজর জেনারেল জাং বাওছুন বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

bd-china-baijing--

এছাড়া চীনে নিযুক্ত বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতগণ, শিক্ষাবিদ, চীনের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীবৃন্দ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, নেতৃস্থানীয় গণমাধ্যমসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশীগণের অংশগ্রহণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ছিলো। অতিথিবৃন্দকে উত্তরীয় পরিধান করানোর মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সহযোগিতা সম্পর্কের উপর আলোকপাত করেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো সুদৃঢ়করণে একযোগে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আগামী ৫০ বছরে কৌশলগত সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চাইনিজ পিপলস এসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশীপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজ-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট জনাব লু শিয়াংদং তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অধিকতর উন্নয়নে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস গভীরতরকরণ,কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধিকরণ, দুই দেশের জনগণের মধ্য যোগাযোগ বৃদ্ধিকরণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে স্মারক খাম প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীতে বিশিষ্ট অতিথিগণ কেক কাটেন।

দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, পর্যটন প্রভৃতি বিষয় তথ্যসমৃদ্ধ বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ দূতাবাস, বেইজিং চীনের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে আসছে।

গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের ০৪ জন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতসহ ০৫ জন বিশিষ্ট চীনা নাগরিক ও একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের প্রাক্তন ০১ জন রাষ্ট্রদূতসহ ০৩ জন বিশিষ্ট চীনা নাগরিক ও ০২ টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করেন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং 'বাংলাদেশ-চীন জনসংযোগ বর্ষ' উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ হতে আগত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক ইমন চৌধুরী ও তার দল 'বেঙ্গল সিম্ফনি'। তাদের সঙ্গে মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ডি রকস্টার' খ্যাত তারকা শুভ ও অনি হাসান। শিল্পীবৃন্দ বাংলাদেশের সংগীতের প্রবাদপ্রতিম কিংবদন্তী লালন সাঁই, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, আব্বাসউদ্দীনের গানের সাথে সমসাময়িক রক লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর গান পরিবেশন করেন।

এ আয়োজনের মাধ্যমে চীন ও বিদেশী নাগরিকদের 42 Guang Hua Lu, Beijing-100600, T:+86-10-65322521, 65323706, F:+86-10-65324346, E:[email protected] নিকট বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংগীত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতাকে উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ও সঙ্গীতের মূর্ছনায় মুগ্ধ হন এবং সুর ও সঙ্গীতে আচ্ছন্ন সন্ধ্যা কাটান। এছাড়া, চীনের শিশু- কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে উপস্থাপন করা হয়।

মুল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের পর্যটন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উপর ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এছাড়া, প্রদর্শনী কর্ণারে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য, হস্তশিল্প, দেশীয় পোশাক এবং বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু শিল্প এবং বাংলাদেশে চীনের বিভিন্ন প্রকল্পের রেপ্লিকা প্রদর্শন করা হয়। অতিথিবৃন্দকে পাটের তৈরি ব্যাগ, ম্যাগাজিন ও পর্যটন বিষয়ক পুস্তিকা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।