# বিশ্বনেতাদের স্বাগত

# যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের শোচনীয় পরাজয়

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দ্ইু সপ্তাহের জন্য একটি শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, লেবাননেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এদিকে বিশ^ নেতারা যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া রাশিয়া জানিায়েছে, যুদ্ধে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে। হিজবুল্লাহ বলেছে, লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত না করলে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে। আল-জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এ যুদ্ধবিরতি চলাকালে হারমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার এক মাসের বেশি সময় পর এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে রাতের মধ্যে পুরো ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন। তিনি আজ বুধবার ভোরে ঘোষণা দিয়েছেন যে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

এ সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেলÑ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কী বলেছে?

ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে সম্মত হলে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা করা বন্ধ রাখবেন। হরমুজ প্রণালি হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সব সামরিক লক্ষ্য পূরণ করে ফেলায় তিনি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এক রাতের মধ্যেই ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তিনি রাতের মধ্যে পুরো ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব ও পোপ এ হুমকির সমালোচনা করেন।

ইরান দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিনা বাধায় নৌযান চলাচল করতে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক বাহিনী সমন্বয় করবে।

ইরান একটি ১০ দফা পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে যুদ্ধে সম্পূর্ণ বিরতি টানা; ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পূর্ণ প্রতিশ্রুতি; যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ও জব্দ করা সম্পদগুলো ছেড়ে দেওয়া এবং পুনর্গঠনের খরচ বাবদ সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি।

ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তেহরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মাঠের লড়াইয়ে ইরানের যে সাফল্য এসেছে, তা রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর হবে। সেখানে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই করছে ইসরাইল।

তবে ইসরাইলের নেতারা বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তারা লেবানন ছাড়বে না।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে লেবানন বা অন্য কোনো জায়গায় তাদের অভিযান স্থগিত করার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ইসরাইল কী বলেছে?

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ইসরাইলে সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে জেরুজালেমে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করে, তাহলে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করবে ইসরাইল।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন পড়বে না। দেশটিতে ইসরাইলের স্থলবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে নেতানিয়াহুর ভূমিকা কতটা ছিল, তা স্পষ্ট নয়।

এরপর কী?

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে শুক্রবার ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সব বিরোধ মিটিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আরও আলোচনা করার জন্য এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, সামনাসামনি বৈঠক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রেসিডেন্ট বা হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়।’

তবে যেভাবেই আলোচনা হোক না কেন, তা সহজ হবে না।

এরই মধ্যে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়েই মতভেদ রয়েছে। গত বছর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই দফা আলোচনা হয়েছে। তবে প্রতিবারই আলোচনার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা

দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, সেই সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করতে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তিনি ইরানকে এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ খুলে দেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

নৌপথে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশ একে স্বাগত জানিয়েছে।

রাশিয়া

ক্রেমলিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই যুদ্ধবিরতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেন বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ পাবে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া আশা করে শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতে আগামী দিনগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে।

জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে এ খবর জানান।

দুজারিক বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব সব পক্ষকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে’ এবং এ অঞ্চলে ‘স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ’ শান্তির পথ প্রশস্ত করতে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আরও বলেন, বেসামরিক মানুষদের জীবন রক্ষা ও মানবিক দুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করা প্রয়োজন।

জাপান

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবরকে টোকিও ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে এবং তারা ‘চূড়ান্ত চুক্তির’ অপেক্ষা করছে।

ইসরাইল

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, তিনি ইরানের ওপর ট্রাম্পের হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তবে লেবাননের ওপর এই যুদ্ধবিরতি তিনি মানবেন না।

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালাচ্ছে।

ইরাক

ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, স্থায়ী সমাধান অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।

মন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায় এবং সংলাপ ও কূটনীতির ভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়। তারা এই যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা ও কোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রভাব ইরাকেও পড়েছে।

মিসর

মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ উপস্থাপন করছে, যা আলোচনার, কূটনীতির ও গঠনমূলক সংলাপের জন্য পথ তৈরি করতে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, সামরিক অভিযান বন্ধ করা ও আন্তর্জাতিকভাবে চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে এ যুদ্ধবিরতির ভিত্তি তৈরি করতে হবে। পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে মিসরও ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রচার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, জাকার্তা এ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানায়। তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে একে অপরের ‘সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখ-তা ও কূটনীতির’ প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বানও জানিয়েছে।

মার্চের শেষ দিকে লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় বিস্ফোরণে তিন ইন্দোনেশীয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হন।

মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ যুদ্ধবিরতি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ নির্দেশ করছে এবং এটি ‘উত্তেজনা হ্রাস ও মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে কাজ করবে।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে।

যুদ্ধবিরতিতে ভূমিকা রাখার জন্য আলবানিজ ও পেনিং পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, তাঁর সরকার যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানাচ্ছে, যদিও এখনো অনেক উদ্বেগ রয়ে গেছে।

খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সে এক পোস্টে পিটার্স লিখেছেন, ‘যদিও এটি উৎসাহব্যঞ্জক খবর এবং আগামী দিনগুলোয় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে উল্লেখযোগ্য কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে।’

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ভূমিকার জন্য পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশের প্রশংসা করেছেন।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে: রাশিয়া

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ‘বিনা উসকানিতে একপাক্ষিক ও আগ্রাসী হামলা’ চালিয়েছে। এ যুদ্ধে দেশ দুটি ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে।

স্পুতনিক রেডিওকে বুধবার মারিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশ একেবারে শুরু থেকে, প্রথম বিবৃতিতেই বলেছিল, এ আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। এ পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই।’

লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত না করলে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে: হিজবুল্লাহ

ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকে অন্তর্ভুক্ত করা না হলে এই চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যেতে পারে।

হিজবুল্লাহর পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহিম মুসাবি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল ফ্রন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদি ইসরাইল এটি মেনে না চলে, তবে ইরানসহ পুরো অঞ্চল এর পাল্টা জবাব দেবে।

আজ বুধবার সকালে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই এবং স্থল অভিযান অব্যাহত থাকবে। এটি মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেরই প্রতিফলন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।

উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল।

সংঘাতের শুরু থেকেই ইরান বারবার বলে আসছে, যেকোনো চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ইসলামাবাদে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেবেন কারা

শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা হওয়ার কথা।

পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।

ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।

লেবাননে ১০ মিনিটের ব্যবধানে ১০০ বিমান হামলা ইসরাইলের

লেবাননে ইসরাইলের বিমানবাহিনীর নতুন দফার হামলায় কয়েক শ মানুষ হতাহত হয়েছেন। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে অনেক হামলা এমন সব এলাকায় চালানো হয়েছে, যেসব এলাকাকে প্রথাগতভাবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা হয় না।লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘বৈরুত ও অন্যান্য এলাকায় (ইসরাইলি) বিমান হামলার ফলে হাসপাতালগুলোতে শহীদ ও আহতদের ভিড়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’লেবানন রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে হামলার শিকার এলাকাগুলো থেকে আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।ইসরাইলি হামলায় কয়েক শমানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি বলেছেন, এই হামলা ‘সব ধরনের মানবিক মূল্যবোধ’ অবজ্ঞার ক্ষেত্রে ইসরাইলের ‘কালিমালিপ্ত রেকর্ডে’ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।এক বিবৃতিতে আউন বলেন, ‘এই বর্বর আগ্রাসন কোনো অধিকার মানে না এবং কোনো চুক্তি বা অঙ্গীকারের তোয়াক্কা করে না। দেশটি (ইসরাইল) বারবার প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির প্রতি তাদের চরম অবজ্ঞা রয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এসব হামলা চালানো হলো। তেহরান বলে আসছে, লেবানন ফ্রন্টও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে। যদিও তা নাকচ করে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।ইসরাইলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছেন, কোনো ধরনের আপস ছাড়াই হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে।

লেবাননেসহ ‘সব পক্ষকে’ যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান পশ্চিমা দেশগুলোর

ইরানে ‘দ্রুত ও স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠা এবং লেবাননেসহ ‘সব পক্ষকে’ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কয়েকটি পশ্চিমা দেশ।যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, কানাডা, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধানেরা এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।নেতারা দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিকে ‘স্বাগত’ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি সম্পন্ন করতে মধ্যস্থতা করায় পাকিস্তান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এখনকার লক্ষ্য হওয়া উচিত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের একটি দ্রুত ও স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করা। এটি কেবল কূটনৈতিক পথেই অর্জন করা সম্ভব। আমরা একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে দ্রুত অগ্রগতির জন্য জোরালো উৎসাহ দিচ্ছি।’ এতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের বেসামরিক জনগণকে রক্ষা করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।’পশ্চিমা নেতারা আরও বলেন, ‘আমরা লেবাননসহ সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানাই।’: বিবিসি

হরমুজে যাবে না মার্কিন বাহিনী

হেগসেথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং ‘মার্কিন সেনারা আশপাশেই থাকবে’—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয় তাঁর কাছে।