দেশের ডলার সংকট কাটাতে সাহায্য করেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। চলতি মাসের ২৯ দিনে দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। একইসঙ্গে সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে প্রবাসী আয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রবাসীরা ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক বছরে সর্বোচ্চ আহরণের রেকর্ড।
বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৮ শতাংশ। শুধু বছরজুড়েই নয়, গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল বেশ শক্তিশালী। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩২৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। একক মাস হিসেবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২৬৪ কোটি ডলার। এক বছর পর সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৩ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২২ শতাংশ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত ৯ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের প্রায় ১৬১ কোটি ডলারের বিল পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনায় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে রিজার্ভ। ১১ ডিসেম্বর গ্রস রিজার্ভ বেড়ে হয় ৩২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগ, প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবা সহজ হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতিতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।