৯ দিন পর সারাদেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং (ক্রয়সীমা) পদ্ধতি প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে তেল নেই। বাধ্য হয়ে চড়া দামে খোলা বাজার থেকে তেল কিনছেন অনেকে।
ঘোষণা অনুযায়ী রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকেই চাহিদামতো তেল পাওয়ার কথা।
কিন্তু সকালে রাজধানীর ডেমরার সিকদার ফিলিং স্টেশন, রাসেল ফিলিং স্টেশন, মালিবাগ হাজীপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন, মধ্যবাড্ডার সিটিজেন সিএনজি ও পেট্রোলিয়াম, উত্তর বাড্ডার মক্কা রিফুয়েলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে বলছে, তেল নেই, তেল আসলে বিক্রি শুরু হবে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহকারী তেলের গাড়িগুলো একদিন পরপর তেল পৌঁছে দেয় এবং পৌঁছাতে দুপুর বা বিকেল হয়ে যায়।
মালিবাগের একটি ফিলিং স্টেশনের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি বাংলানিউজকে বলেন, রেশনিংয়ের সময় চাহিদা এত বেশি ছিল যে প্রতিদিনের তেল প্রতিদিনেই শেষ হয়ে যেত।
তেল বিক্রি করতে পারলে তো আমাদেরই লাভ। নতুন করে তেল না আসা পর্যন্ত আমাদের কিছুই করার নেই।
তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে জানতে ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালক ইকরাম হাসান অভিযোগ করে বাংলানিউজকে বলেন, অধিক মুনাফার আশায় ফিলিং স্টেশন মালিকরা মজুদদারি করছে।
খোলা বাজারে তেল সরিয়ে নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলো ইচ্ছে করে আমাদের তেল দিচ্ছে না। বাইরে খোলা বাজারের তেলের দোকানগুলোতে বেশি লাভে বিক্রি করছে।
আরেকজন মোটরসাইকেল চালক রেজাউল করিম বলেন, ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে মাদারটেক তিতাস রোডে খোলা বাজারের একজন দোকানদার তার কাছে ১ লিটার তেলের দাম ১৭০ টাকা চেয়েছেন। যেখানে স্টেশনে অকটেন বিক্রি হয় ১২২ টাকায়।
রেজাউল আরও জানান ওই দোকানদার এতদিন এক লিটার অকটেন ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
তিনি বলেন, বাইরে দাম বেশি। ফিলিং স্টেশনে এসে দেখি তারা তেল বিক্রিই বন্ধ রেখেছে। অতিরিক্ত মুনাফালোভীদের কারণে সরকার রেশনিং তুললেও আমাদের ভোগান্তি কমেনি।
প্রাইভেটকার চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রেশনিংয়ের সময় তাও ২০ লিটার পাওয়া যেত, এখন তো ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রিই বন্ধ। আমাদের ঈদযাত্রা আর কৃষকদের বোরো মৌসুমের দোহাই দিয়ে রেশনিং তোলা হলো, কিন্তু এখানে এসে যদি তেলই না পাই তবে কী লাভ হলো।
রোববার (১৫ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ (রোববার) থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব বিতরণ পয়েন্ট থেকে সবাই চাহিদামতো তেল কিনতে পারবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথাও যদি সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা দেখা যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।