“ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ’, ‘ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল’, ‘লুটপাটের সাথে জড়িত কেউ ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে না রাখা’, ‘ব্যাংক রেজুলেশন এক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করা’, ‘এস আলমের দখলকৃত মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয় করা’, ‘শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা’, ‘ইসলামী ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক লুটকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার”- ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (০২ জুন) দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী গ্রাহক, শেয়ারহেল্ডার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বক্তরা বলেন, “ব্যাংক লুটেরা এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দিলে গভর্নরকে পদত্যাগ করতে হবে”। তাঁরা দাবি করেন, একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকিং সেক্টর সংকটের মুখোমুখি। তাঁরা বলেন, একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কখনো অর্থনীতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না। বক্তারা, বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁর গার্মেন্টসের জুট ব্যবসায় পাঠানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরু নবী মানিক বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতে করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড মিটিং দিনের পরিবর্তে রাতের আধাঁরে করতে প্রশাসন দিয়ে পরিচালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এক নেক্করজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড মিটিং হতে হবে ব্যাংকের প্রকৃত মালিক ও পরিচালকদের উপস্থিতিতে ব্যাংকের কার্যলয়ে। গুপ্তভাবে ভিডিও কলে রাতের আধাঁরে বোর্ড মিটিং হলে সেটি বিধিবহির্ভূত এবং অবৈধ। মিটিং যদি অবৈধ হয়, মিটিংয়ের সকল সিদ্ধান্তও অবৈধ। পহেলা জুন (সোমবার) রাতে অনুষ্ঠিত বোর্ড মিটিং সম্পন্ন অবৈধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীরা এই বোর্ড মিটিং ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি, অনতিবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিক ও পরিচালকদের স্বশরীরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বোর্ড মিটিং করে বিতর্কিত চেয়ারম্যান এস আলমের উত্তরসূরি খুরশিদ আলমের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং এমডি পদে ওমর ফারুক খানকে বহাল রাখার দাবি জানান।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে ইসলামী ব্যাংক লুট করতে এস আলম গ্রুপের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের মাত্র ৩ মাসের মাথায় ইসলামী ব্যাংককে আবারও ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার নীল-নকশা আঁকছে। যাদের হাতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং সেক্টর ধ্বংস হয়েছে তাদের হাতে আবারও ব্যাংকিং সেক্টর তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসতে দেওয়া যায় না, যাবে না। তিনি হুঁশিয়ারি করে বলেন, যদি খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসতে দেওয়া হয় তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেঁরাও হতে পারে।

এসময় তিনি, ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ ও গুলি করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মানুষের সারাজীবনের কষ্টার্জিত আমানত রক্ষার শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে আর কোনো বাঁধা আসলে কিংবা রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করা হলে ব্যাংকের গ্রাহকেরা তা প্রতিহত করবে। পরবর্তীতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার পূর্ণ দায়ভার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে নিতে হবে।