• জ্বালানি-রেমিটেন্স-রফতানি আয়-বিনিয়োগে বড় ধরনের ধাক্কার আশংকা

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ সংকট তৈরি করতে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক খাতের জন্য সংকটের সাইরেন বাজাচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সংকট ধেয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও বাণিজ্য যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও এলএনজি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সতর্কতা রপ্তানি আয়ে উদ্বেগ এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি করছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতার পাশাপাশি টেকসই কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এছাড়া, দেশীয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি করলে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের বাহ্যিক ধাক্কা কমানো সম্ভব ।

সূত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের কর্মসংস্থান প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহও কমতে পারে। প্রবাসী শ্রমিকদের প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন এবং এখান থেকে আসে দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৪৯ শতাংশ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত, বাহরাইন, ইয়েমেন। এই দেশগুলোতে প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বন্ধ হতে পারে এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা পড়বে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এ ছাড়া আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হলে শ্রমিকদের যাতায়াত এবং রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্ক ও সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

এদিকে বিনিয়োগ মন্দা, কর্মসংস্থান সংকট, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, রপ্তানি আয়ে ভাটার কারণে দেশের অর্থনীতিতে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে ইরানের ওপর আমেরিকা-ইসরাইলের যৌথ হামলার কারণে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান তার প্রতিবেশী দেশ আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন অনিরাপদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত এ পরিস্থিতির অবসান না হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর সংকট তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় কৃচ্ছ্রসাধন এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস খোঁজার পরামর্শ তাদের। তারা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে হবে। প্রয়োজনে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে চলতি অর্থবছরের বাজেট পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরাসরি হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী না হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে হরমুজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে তার অভিঘাত আমাদের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে, তা প্রায় অনিবার্য। বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল এবং এলএনজি সবকিছুর ক্ষেত্রেই আমদানি নর্ভরতা রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী। এদের বেশিরভাগ রফতানি পথই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।

সূত্র জানায়, যদি দীর্ঘমেয়াদে প্রণালিটি অচল হয়ে পড়ে, তবে প্রথম ধাক্কা আসবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাধ্যমে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং শিল্প উৎপাদনে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে। সরকার যদি ভর্তুকি বাড়ায়, বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে আর যদি ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে। তেলের দাম বাড়লে শুধু জ্বালানি খাতেই প্রভাব পড়ে না, এটি অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই ছড়িয়ে পড়ে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। কৃষি খাতে সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের ব্যয় বাড়ে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট হলে, তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে, যা টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। টাকার অবমূল্যায়ন হলে আমদানিনির্ভর অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে। ফলে এক ধরনের ‘দ্বৈত চাপ’ তৈরি হবে। একদিকে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি, অপরদিকে বিনিময় হারজনিত চাপ।

সূত্র জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত। সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে এসব দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি প্রথমদিকে এসব দেশের রাজস্ব বাড়াতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামরিক উত্তেজনা, বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য বিঘ্নিত হলে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। সে ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র জানায়,বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এই খাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সংকট দেখা দিলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা রফতানি আদেশ পূরণে সমস্যা তৈরি করবে। অপরদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপ ও আমেরিকার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব এলে পোশাকের মতো পণ্যের চাহিদা কমে যায়। ফলে বাংলাদেশের রফতানি আয় হ্রাসের ঝুঁকিও তৈরি হবে।

নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধকল এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন সংকট। কার্গো ফ্লাইট অনিয়মিত হয়ে পড়ায় জরুরি চালান সময়মতো পাঠানো কঠিন হয়ে যেতে পারে। এতে ক্রেতাদের আস্থা নড়বড়ে হবে, সময়সীমা মেনে ডেলিভারি দেওয়াও ঝুঁকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প রুটে গেলে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়বে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সামনে আরও বড় চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্র”য়ারি মাসে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে। শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আরও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, ইতালি, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছেÑ ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স আয়ে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন এবং এখান থেকে আসে দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৪৯ শতাংশ। সামনের দিনগুলোতে রেমিট্যান্স আয়ে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুংয়ারি মাসে সৌদিপ্রবাসীরা দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৯ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ওমান, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, ইতালি, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার, ৩১ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার, ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার, ১৭ কোটি ৮০ লাখ, ১৬ কোটি ২ লাখ ৯০ হাজার, ১৪ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার, ১৪ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ও ১২ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ফিরলেও এখনো এটি সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। এর মধ্যে বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কিনতে হলে রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে। এতে দেশের আমদানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিপিডি মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যের যে সংকট তৈরি হয়েছে তার সমাধান আমাদের হাতে নেই। আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে যদি পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটে তাহলে আমাদের জন্য সংকটময় হয়ে উঠবে। তবে সেটি নির্ভর করবে পরিস্থিতির গভীরতা ও সময়ের ব্যাপ্তির ওপর। এক্ষেত্রে আমাদের আশু কিছু করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। এর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল বিশেষ করে ডিজেল রিজার্ভ বাড়াতে হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে গুরুত্বারোপ করতে হবে। আগামী বোরো ফলন যাতে ঠিকমতো হয়, সেটি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। সরকারের যেসব নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রয়েছে সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেয়ে সংকট মোকাবিলার বিষয়টি অধিক গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানিতেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। সুয়েজখাল ব্যবহার করে ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানির র”টটিও এখন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে। এখন বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানিতে বিকল্প পথ ব্যবহারের প্রয়োজন হলে এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়ে যাবে। এতে পোশাক রপ্তানি আয় কমে যাবে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে উত্তর ইউরোপ ও আমেরিকা অঞ্চলের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। এতে তাদের চাহিদাও কমবে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি গভীর সংকটে পড়তে পারে।

পলিসি একচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ মনে করেন ,আমাদের যে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট, এটার সবচেয়ে বড় অংশটা হলো মধ্যপ্রাচ্য, রেমিট্যান্সের একটা বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য। এখণ যুদ্ধ যদি প্রলম্বিত হয়, তাহলে যারা সেখান থেকে টাকা-পয়সা পাঠায়, তাদের টাকা-পয়সা পাঠানো, তাদের চাকরিসবকিছু হুমকির মুখে আসতে পারে, আর নতুন রিক্রুটমেন্ট দেরি হয়ে যেতে পারে। সেটা কিন্তু আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং এমপ্লয়মেন্ট দুটা জায়গাতেই একটা নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে। সুতরাং, এটাকে মাথায় রেখে এখন যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করতে হবে, সেখানে একটা আর্জেন্ট সেকশন থাকতে হবে। সেই আর্জেন্ট সেকশনটা হলো, ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যের যে সংঘাত শুর” হয়েছে, এর প্রভাব কীভাবে সামাল দেয়া হবে?’

সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬৬ শতাংশে নেমে এলেও তা এখনও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮.১২ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকায় আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে সামান্য ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবে মানুষের সঞ্চয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে ভোগব্যয় সীমিত হয়ে পড়ছে, যা আবার সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এখন দেশের অর্থনীতির জন্য অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয়।

ইপিবির তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ইরানে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ডলারের পণ্য, যার মধ্যে ১ কোটি ৮ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৮ ডলারের পাটের সুতা, ৯৫ হাজার ৩১০ ডলারের নিট পোশাক এবং ৯ হাজার ৩৫১ ডলারের ওভেন পোশাক। অঙ্কটি তুলনামূলক ছোট হলেও কৌশলগতভাবে তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আরও বড় বাজার হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। শীর্ষ ২০ রপ্তানি বাজারের তালিকায় রয়েছে দেশ দুটি। গত অর্থবছরে আমিরাতে রপ্তানি হয়েছে ৩৫ কোটি ডলারের বেশি, আর সৌদি আরবে ২৯ কোটি ডলারের বেশি। যুদ্ধের বিস্তার হলে এ বাজারগুলোতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।