ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা : উত্তরের জনপদ তিস্তা নদী-বিধৌত চরাঞ্চলে এবার মিষ্টি কুমড়া, সরিষা ও পেঁয়াজের বাম্পার ফলনে স্বস্তি আর আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। বিশেষ করে তিস্তা চর জুড়ে সবুজ লতা আর হলুদ ফুলের গালিচা যেন নতুন সম্ভাবনার গল্প শোনাচ্ছে। চরের বিস্তীর্ণ জমিতে সারি সারি মিষ্টি কুমড়ার লতা, তার পাশেই দুলছে সোনালি সরিষার ফুল ও দানা, পাশাপাশি রয়েছে পেঁয়াজের আবাদ। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির ফলে এ বছর ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। ভালো দামের আশায় এখন বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক জামিনুর রহমান, ইউনুস আলী, শাহিনুর রহমান ও দুলালী রানী রায় জানান, গত কয়েক বছর ধরে নদীভাঙন ও বন্যার কারণে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় ফলন হয়েছে চমকপ্রদ। আকারে বড় ও মানসম্মত মিষ্টি কুমড়া এবং ভালো দানার সরিষা ও পেঁয়াজ দেখে ইতোমধ্যে পাইকারদের আগ্রহ বেড়েছে।

এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন,

“তিস্তা চরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও সুষম সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যার ফলে এ বছর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন রায় জানান, “মাঠ পর্যায়ে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। রোগবালাই দমন, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বাজার সংযোগে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।” কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চরাঞ্চলের বহু অনাবাদি জমি এবার আবাদে এসেছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে স্থানীয় কর্মসংস্থানও। মৌসুম শেষে এই ফলন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিস্তার চরে এখন শুধু ফসল নয়- ফুটে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। কৃষকের ঘরে ফিরছে স্বপ্ন, আর মুখে ফুটছে স্বচ্ছলতার হাসি।