চলতি মওসুমে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় ব্যাপক সরিষা চাষ হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মওসুমে রংপুর অঞ্চলের মধ্যে রংপুর জেলায় ২৪ হাজার ২৫৫ হেক্টরে, নীলফামারী জেলায় ৮ হাজার ৩৭০ হেক্টরে, লালমনিরহাট জেলায় ২ হাজার ৪৮০ হেক্টরে, কুড়িগ্রাম জেলায় ২৫ হাজার ৭৫০ হেক্টরে এবং গাইবান্ধা জেলায় ১৭ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে এবারে সরিষা চাষ হয়েছে।
সরিষা চাষ সফল করতে চলতি মওসুমে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ৪ হাজার ২’শ জন কৃষকের প্রত্যেকের মাঝে আড়াই কেজি করে উচ্চ ফলনশীল বীনা জাতের সরিষার বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভাগের ৫৯টি উপজেলায় ১০০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২২ হাজার কৃষককে ২২ হাজার কেজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি তথ্য অনুযায়ী, গত মওসুমে রংপুরের ৮ উপজেলায় ২৫ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে সেই চাষ নেমে এসেছে ২৪ হাজার ২৫৫ হেক্টরে। এ বছর রংপুর জেলার আটটি উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৮৬৬ হেক্টর জমিতে। সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৮৬ মেট্রিক টন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জমি সময়মতো প্রস্তত করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরিষা চাষে আগ্রহ থাকলেও অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সরিষা চাষ করতে পারেননি।
জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আবুল বাশার, বাচ্চু ও আলামিন জানান, ‘এ বছর অসময়ে বৃষ্টির কারণে জমি সরিষার উপযোগী করা যায়নি। অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি।” কম খরচে লাভজনক ফসল হওয়া সত্ত্বেও এ বছর গত অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ কম হয়েছে।
বিনা রংপুর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠকুরগাঁও এবং দিনাজপুর জেলায় চলতি মওসুমে বিনা সরিষা-১১ জাতের চাষ ভাল হয়েছে। চাষ সফল করতে এই ৮ জেলায় ৪ হাজার ২’শ জন কৃষককে আড়াই কেজি করে উন্নত জাতের সরিষা বীজ বিনামুল্যে দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৮ জেলার ৫৯টি উপজেলায় ১০০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এতে কৃষককে হাতে কলমে কারিগরী সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর ফলে এবারে সরিষার ফলন ভাল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।