বাহুবল (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা : হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একাধিক চক্রের বিরুদ্ধে। পরিবেশ আইন অমান্য করে অর্ধশতাধিক কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার প্রায় সব কটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এক্সকাভেটর দিয়ে কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে সরানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, মিরপুর ইউনিয়নের একাধিক স্থানে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, সন্ধার পর থেকে সারারাত ডামট্রাক এবং টাক্টরের মাধ্যমে এসব মাটি বহন করা হয়ে থাকে ফলে মিরপুর চৌমুহনীতে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ধুলা বালীতে দোখানপাটের মালামালের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনকে অবিহিত করলে সেখান থেকে তথ্য ফাঁস করে দেয় বলে তাদের ধারণা। এতে অভিযুক্তরা অভিযোগকারীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও তারা জানান।
অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয়ভাবে শামছুর রহমান, বজলু মিয়া সহ প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে, যারা বাহুবল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার কাজের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়া হলে ফলন কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে বলেন, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, ব্যাপক আকারে মাটি কাটার বিষয়ে তিনি অবগত নন, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।