ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সূর্যের আলো ঠিকমতো না পাওয়ায় হলুদ ও ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করেছে ধানের চারাগাছ।

গত কয়েকদিন ধরেই ভূরুঙ্গামারীতে ঘন কুয়াশা এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর উপজেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর। এরমধ্যে হাইব্রীড ৯ হাজার ২৫ হেক্টর উফসী ৭ হাজার ৪৫৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৫ হেক্টর। এর বিপরীতে কৃষকরা ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। এরমধ্যে হাইব্রীড ৪৫৫ হেক্টর উফসী ৩৮৮ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১ হেক্টর।

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এভাবে শীত থাকলে বোরো আবাদের জন্য বিছন পাওয়াই সমস্যা হবে। তিলাই ইউনিয়নের লাভলু মিয়া চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের শফিউদ্দিন ও পাইকেরছড়া ইউনিয়নের দুলাল মিয়া জানান গত কয়েকদিনের প্রচন্ড শীতে তার চার ভাগের একভাগ বীজতলার বোরো ধানের চারাগাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। তারা বলেন, চারাগাছগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করে প্রায় মরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান আবাদ কিভাবে করবো তা নিয়ে খুবই চিন্তায় দিনাতিপাত করছি।

এ সমস্যায় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের বীজতলায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া, বীজতলায় সকালে জমে থাকা শিশির কনা ছাড়িয়ে দেয়া, রাতে পানি সেচ দিয়ে সকালে বের করে দেয়া ও জমিতে নির্দিষ্ট পরিমান সার প্রয়োগসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: আব্দুল জব্বার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতে উপজেলায় পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না থাকায় চারাগাছের পাতাগুলো ঠিকমতো খাদ্য তৈরি করতে পারছে না। তাই চারাগাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের উপসহকারি কৃষি কর্মাকর্তাগন মাঠে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বীজতলা পুনরায় ঠিক হয়ে যাবে এবং পাতাগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করবে।