শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই মানিকগঞ্জ জেলায় বাড়ছে পেঁয়াজের বীজ চাষ। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ফসলের প্রতি। স্থানীয়দের কাছে পেঁয়াজের বীজ ‘কালো সোনা’ নামে পরিচিত।

জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর জমির কারণে মানিকগঞ্জে পেঁয়াজের বীজের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজের কদম চাষে ঝুঁকছেন। তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এটি এখন অনেকের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মানিকগঞ্জ জেলায় পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা হয়েছিল ২৯ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ১৬ মেট্রিক টন বীজ। এ অর্থবছরে জেলায় পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা হয়েছে ৪২ হেক্টর জমিতে।

কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে পেঁয়াজের বীজের দাম সন্তোষজনক থাকায় তারা চাষের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো পরিচ্ছন্ন বীজ সংগ্রহ করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। শিবালয় উপজেলার উলাইল গ্রামের রতন দেওয়ান বলেন, ‘আমি আগে অল্প পেঁয়াজ চাষ করতাম। এখন অনেক পেঁয়াজ চাষ করি। জানার (বীজ) সিন্ডিকেটের কারণে এখন নিজেই পেঁয়াজের বীজ চাষ করি। প্রথমে ১০ শতাংশ দিয়ে শুরু করেছিলাম। এবার ৩ বিঘা জমিতে করেছি। সরকার যদি একটু নজর দিতো, আমাদের জন্য ভালো হতো। কারণ সারের দাম বেশি, শ্রমিকের দাম বেশি। আমরা চাই, পেঁয়াজের বীজ চাষ আগামীতে আরও বাড়াবো।’

একই এলাকার বাসিন্দা রবিউল বলেন, ‘এলাকায় পেঁয়াজের চাষ হয় অনেক। পেঁয়াজের বীজ কিনে আনলে তারা অনেক ভেজাল করে। এ কারণে নিজেই পেঁয়াজের বীজ আবাদ করি। আমি ৪৮ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ করেছি। বীজ ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ হবে ২ লাখ টাকা। আশা করছি বিক্রি করবো ৫ লাখ টাকা। ’মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘গত বছর ২৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা হয়েছিল। এ বছর ৪২ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। আশা করছি আগামীতে আবাদ আরও বাড়বে।’