মো. রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে গ্রাম এলাকায় এখন কম বেশী কুলের চাষ হচ্ছে। উৎপাদিত কুল শুধু সাতক্ষীরার বাজার গুলোতে বিক্রির সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটা যশোর, খুলনা, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাবে চাহিদা মেটাচ্ছে,। কালিগঞ্জ এলাকায় এ ফলটি কুল নামে পরিচিত এটা কাঁচা বেলায় সামান্য টক লাগে আর পাকলে প্রচুর পরিমাণ মিষ্টি লাগে। এ ফলটাকে সাতক্ষীরা জেলার বাহিরে বরই নামে চেনে। অথচ সাতক্ষীরা জেলা আমে বিখ্যাত তাই আমের পাশাপাশি কুল ও নজর কেড়েছে দেশের মানুষের, স্বাদ আর মিষ্টির কারনে এ কুলের চাহিদা সর্বত্রে, এমনটি জানিয়েছে কুল ব্যবসায়ী ও চাষীরা।
কুল বা বরই হচ্ছে বাংলাদেশে অন্যতম একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলমগীর খাঁ দুই বিঘা জমিতে ও একই এলাকার বামনপাড়া মোস্তফা কারীগরের প্রায় ২০ বিঘা জমিতে গত কয়েক বছর যাবৎ কুল চাষ করে লাভজনক হওয়ায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা তাদের বাগানে ও বাড়িতে কুল চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। চাষিরা বলেছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বল আপেল, থাই সুন্দরী ও বাউকুল গাছে ফল ধরে। মাত্র ৪ মাস সময়ের মধ্যেই কুল গাছে ফলন আসে। ফলে অনেক যুবক কুল চাষে এগিয়ে এসেছেন এবং অর্থনৈতিকভাব অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলার হাট-বাজার অথবা ফলের দোকান গুলোতে প্রতি কেজি কুল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০-৮০ টাকায়।
কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের মাঘরী গ্রামের কুল চাষী এমদাদুল হক দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, আমি আমার ১৫ বিঘা ঘেরের ভেঁড়িতে কুল চাষ করেছি লাভবান হচ্ছি।
আমার দেখা দেখি এলাকার অধিকাংশ বেকার যুবকরা বাড়ির আনাচে-কানাছে বা অব্যবহৃত জমিতে কুল চাষ করছে, তারা কুল চাষ করে ব্যাপকভাবে সফলও লাভবান হচ্ছে। এ কুল যেমন স্বাদ, তেমনই মিষ্টি, যার কারণে প্রতিদিন বাগান থেকে কুল তুলা হয়। ঢাকা, খুলনা, যশোর সহ বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া এ কুল বাগানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও হচ্ছে।