সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা : পারিবারিক খামার থেকে পর্যায়ক্রমে বিশাল ডেইরি ও পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলে বছরে আয় করছেন ২ কোটিরও অধিক টাকা। পরিবারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন এলাকার অসংখ্য নারী পুরুষের। শুরুটা করেছিলেন একদম পারিবারিক প্রয়োজনে স্বল্প পরিসরে। সদস্যদের সুষম ও আদর্শ খাদ্যের কথা চিন্তা করে তিনি, বাড়ির আঙিনার পাশে হাঁস, কবুতর ও মুরগির খামার গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে পরিবারের বাড়তি আয়ের কথা চিন্তা করে ২০২০ সালের দিকে বাড়ীর পাশে পতিত জায়গায় গড়ে তুলেন গরুর খামার। ২০টি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। তা আজ বিশাল কর্ম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এরপরে পর্যয় ক্রমে আলাদা শেড় নির্মান করেন শুরু করেন ব্রাউন লেয়ার মুরগির খামার। গাভীর দুধ বিক্রির পাশা পাশি সারা বছর বিক্রির জন্য ষাঁড় ও প্রস্তুত করে রেখেছেন। কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য আলাদা দেশীয় উন্নত জাতের ষাঁড ও লালন পালন করে যাচ্ছেন। ডেইরি ফার্মের গোবর, লেয়ার খামারের বিষ্ঠা দিয়ে তিনি নিজ খরছে তৈরি করেছেন বিশাল বায়োগ্যাস ফ্ল্যান্ট, সেখান থেকে নিজেদের ব্যাবহার ছাড়া ও আশপাশের ৩০টি পরিবারের মাঝে বাণিজ্যিকভাবে এ গ্যাস সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছেন।এ ছাড়া গ্যাস ফ্ল্যান্ট থেকে দুইটি জেনারেটর দিয়ে খামারের আলো বাতাসের ব্যবস্থাও গ্রহন করছেন।
দেশীয় মুরগী, কবুতর, হাঁস এবং পোল্ট্রি ফার্ম, ডেইরি ফার্ম, বায়োগ্যাস ফ্ল্যান্ট ইত্যাদি ফার্ম থেকে বছরে প্রায় ২ কোটির অধিক টাকা আয় করে এলাকায় তাকলাগিয়ে দিয়েছেন ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার সোনাপুর দীঘির পাড়ের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের এইচ.এম. রহমান পোল্ট্রি এন্ড ডেইরি ফার্মের স্বতাধিকারী উদীয়মান শিল্প উদ্যোক্তা রাজিউল ইমাম মঞ্জিল। এলাকার লোকদের মুখে মুখে তাঁর নাম এখন “জিরো থেকে হিরো”। খামারের মালিক, স্থানীয় এলাকাবাসী, সংশ্লিষ্ট লোকজন ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উদীয়মান শিল্পদ্যোক্তা রাজিউল ইমাম মঞ্জিল তাঁর অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিজ গ্রামে পতিত জায়গায় পরিকল্পিত ভাবে বিশাল ডেইরি ও ব্রাউন লেয়ার ফার্ম গড়ে তুলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। দেশের বাড়তি খাদ্য জোগানে তিনি অনন্য অবদান রাখায় তিনি গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষ হতে দাগনভূঁঞা উপজেলার শ্রেষ্ঠ খামারীর সনদও অর্জন করেন। পরিকল্পিতভাবে একই ভাউন্ডারী এলাকায় আলাদা শেড় নির্মাণ করে দুধের গরু, ষাঁড়, গরুর বাচুর, কুরবানীর গরু মিলিয়ে প্রায় ১০০ এর মতো গরু দিয়ে ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলেছেন। সেখান থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকাল প্রায় ৩০০ লিটার এর মতো দুধ আহরণ হয়। উক্ত দুধ গুলো পেকেটজাত করে উপজেলার বিভিন্ন বড় বড় হাট-বাজার ছাড়াও জেলা সদরে সরবরাহ করা হয়। অপর দিকে সুবিশাল ২টি শেড়ের মধ্যে ৫০০০ হাজারের হাইলাইন ব্রাউন মুরগির খামার গড়ে তুলে সেখানে থেকে গড়ে প্রতিদিন ৩-৪ হাজার ডিম সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মাংসের জোগানও দেয় এখামারটি।
সর জমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কেউ মাঠ থেকে মাথা বোঁঝাই করে নেপিয়ার জাতের কাঁচা ঘাস মাথায় বোঁঝাই করে খামারে আনছেন, ডেইরিফার্মে লতা পাইপের মাধ্যমে পানি দিয়ে পরিষ্কার করছেন, কেউ আবার ফার্মে পানি সাপ্লাই দিচ্ছেন, পাশের শেড়ে। ব্রাউন লেয়ার মুরগির খামারের খাদ্য খাওয়াচ্ছেন কেউ বা রড ও তারের তৈরি খাঁচা থেকে দুই হাত দিয়ে ডিম সংগ্রহ করে ক্যারটে ভরছেন। আর একটু পাশেই দেখা যাচ্ছে ক’জন শ্রমিক সংগ্রীহিত দুধ বাজারজাত করার জন্য প্যাকেজিংয়ে ব্যস্ত। গেইটের সামনেই টম টম, অটো রিকসা, ভ্যান গাড়ি ও পিকআপ নিয়ে জটলা করছে দুধ ও ডিম সংগ্রহে আসা পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা। সব মিলিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ ও সার্বক্ষণিক লোকজনের কোলাহল চলছে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর ধর্মপুর গ্রামের এইচ. রহমান পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্মকে ঘিরে।