পীরগাছা (রংপর) সংবাদদাতা : রংপুরের পীরগাছায় আলু চাষীদের হাহাকার শুরু হয়েছে। এবছর আলু মৌসুমে আলু উত্তোলনের সময় অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির কারনে আলু চাষীদের মনের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। জানা যায় রংপুরের পীরগাছার সাধারন চাষীরা এবারে বেশী লাভের আশায় আমন ধান কাটার সাথে সাথে জমি চাষ করে আলু লাগায়। যাদের নিজের আলু বীজ ছিল না তারাও নগদ টাকা দিয়ে বীজ ক্রয় করে আলু লাগায়। অনেকে বেশি দামে বীজ ক্রয় করেন। গত দুই বছরে আলুর পর্যাপ্ত মূল্য না থাকায় এবার আলুর প্রচুর মূল্য পাবে এই আশায় কৃষকেরা নিজ জমি ছাড়াও অনেকে বিভিন্ন এনজিও হতে কিস্তিতে লোন উত্তোলন করে জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষ করেন। আশা ছিল লোন পরিশোধ করে নিজে লাভবান হবে। কিন্তু আলু উত্তোলনের সময় এই এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় আলুর জমিতে পানি জমে যায়। এতে করে আলুতে পঁচন ধরে এবং আলূ উত্তোলন করতে বেশী খরচ লাগে। অনেকে আলু উত্তোলন করে রোদে শুকিয়ে বস্তা প্যাকেট করে ষ্টোরে জমা রাখে। উপজেলার চালুনিয়া কুমারপাড়া গ্রামের কৃষক আঃ মজিদ জানায় তার এক একর জমিতে পানি জমে থাকার কারনে প্রায় ৫০ বস্তা আলু পঁচে গেছে। পবিত্রঝাড় গ্রামের আলু চাষী জাবেদ আলী ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের ১৫ একর জমিতে তারা আলু চাষ করেছে। এই আলু উত্তোলন ও সুটিং করে বস্তা ষ্টোর করতে তাদের প্রচুর ক্ষতির আকাঙ্খা করছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায় এবছর পীরগাছা উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার আলু ষ্টোরের মালিকেরা বেশি মুনাফা লাভের আশায় তারা অগ্রিম বুকিং দিয়েছে। কদমতলী আর.ভি ষ্টোরের ম্যানেজার বলেন তাদের ৫০ হাজার বস্তা বুকিং হয়েছে। এখন আর কোন সংরক্ষণের সুযোগ নেই। তাই আমরা ষ্টোর বন্ধ করে দিয়েছি। ষ্টোরগুলিতে প্রশাসন থেকে তদারকী না করলে কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে হবে বলে মনে করেন সাধারন চাষীরা।