কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছেচাষিদের ভোজ্যতেলের চাহিদা মিটিয়েও এর ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যমুখীর হেক্টর প্রতি ফলন হয় দেড় থেকে ২ টনের বেশি। সবুজ ফসলের মাঠে হলুদ রঙের সমারোহ। পাখির চোখে দেখলেও যেন শেষ হবে না মাঠের বিস্তৃতি। কলারোয়ার গ্রামীণ পথ ধরে এগুতেই চোখে পড়ে অসংখ্য সূর্যমুখী ফুলের বাগান।

কলারোয়া উপজেলার প্রায় অধিকাংশ এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়ে থাকে । এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখীর জন্য উপযোগী হওয়ায় এ চাষে দিন দিন কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন। এ চাষে স্বল্প খরচ এবং কম সময়ে ভালো ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এ বছর উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে, এসিআই হাইসান ৩৬ ইন্ডিয়ান। যার উৎপাদন হয়েছে প্রতি বিঘায় ৯ মণ। কয়লা, যুগিখালী, মুরারীকাঠি ও কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মাঠে এর চাষ হয়েছে । হামিদপুর গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে। যুগীখালি গ্রামের কৃষক মজিবর বলেন, এই জাতের বীজটা খুব ভালো তাই লাভবান হতে পারবো ইনশাআল্লাহ ।

এ ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে আটকে যায় পথিক ।এসব মাঠের দৃশ্য দেখতে ছুটে আসে গ্রামের ছোট বড় সবাই । শহরের যান্ত্রিক জীবনকে ক্ষণিকের বিরতি দিতে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন গ্রামের সূর্যমুখীর মাঠে। তারা বলেন, এটা কৃষকের আয়ের জায়গা হলেও পর্যটনের জন্য সূর্যমুখী ফুল ভীষণভাবে সমাদৃত। এতো সুন্দর ফুল দেখে খুব ভালো লাগছে। সবাই মিলে ছবি তুললাম, সুযোগ পেলে আবারও আসতে চাই। কোলেস্টোরলমুক্ত সূর্যমুখীর তেলে প্রচুর প্রাণশক্তি থাকায় দিন দিন এই তেলের চাহিদা বাড়ছে। উচ্চফলনশীল কাবেরী চ্যাম্প জাতের বীজ থেকে পাওয়া যায় ৪৫-৫০ শতাংশ সূর্যমুখী তেল। এবার উপজেলায় দুইশত কৃষকের মাঝে এসব বীজ বিতরণসহ সূর্যমুখী চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. এনামুল হক বলেন, সূর্যমুখীতে তিনবার সেচ দিলে ফলন ভালো পাওয়া সম্ভব। আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলে অবশ্যই তারা সফল হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ভোজ্যতেল উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বছর কলারোয়া উপজেলায় ২১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। যদিও সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বেশিরভাগ পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। তবে সরকার ও তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান গুলো উদ্যোগ নিলে দেশের সূর্যমুখী তেলের চাহিদা স্থানীয় ভাবে মেটানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।