শুকনো মওসুমের শুরুতেই রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুতের সংকট বেড়ে গেছে। এর ফলে বিশেষ করে বোরো ধান ও আলুর আবাদ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জনজীবনে চলছে দুর্ভোগ।

গত এক-দেড় সপ্তাহ থেকে রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুতর আসা-যাওয়া প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দিনরাত সমান তালে চলছে এই আসা-যাওয়া। আর এটি চলে ঘণ্টা থেকে শুরু করে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। গ্রামাঞ্চলে এর মাত্রা আরো বেশি। ঘন ঘন লোডশেডিয়ের ফলে সেচ কাজ ব্যহত হচ্ছে। এতে কৃষকেদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও জনজীবনে দুর্ভোগের পাশাপাশি অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার জাতীয় নির্বাচনের কাজেও ব্যাঘাত হচ্ছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামগুলোতে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এখন রবি শস্যর ভরা মৌসুমও চলছে। মাঠে হাজার হাজার হেক্টর আলু চাষ হচ্ছে। শুরু হয়েছে বোরো ধানের চারা রোপণ। এমন অবস্থায় বিদ্যুতের এমন লোডশেডিং-এর কারণে সময়মত সেচ দিতে না পেরে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে সার্বিক ফসল আবাদে। সকাল থেকে রাত প্রায় ১০টা অবধি রাজশাহী পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর বাগমারা, দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে অন্ততপক্ষে ৮ থেকে ১০ বার লোডশেডিং হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রমতে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সেচ গ্রাহকের প্রতিদিন ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ মেগাওয়াট পর্যন্ত। জেলায় প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় গ্রামঞ্চলে লোডশেডিং থাকছে। তবে পল্লীবিদ্যুতের সূত্রে জানা যায়, রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের একটি ইউনিট পুরোপুরি অকোজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া কয়লার সংকটের কারণে বিদ্যুত উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিং সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তানোর উপজেলার একজন আলুচাষি জানান, সকাল হতে তিনজন শ্রমিক দিয়ে ৩০ বিঘা আলুর জমিতে সেচ দিতে গিয়ে পুরো শ্রমিকের মজুরির টাকা লোকসান হয়েছে। কারণ দুটি গভীর নলকূপে সেচ নিতে গিয়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং-এর কারণে সারাদিনে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলেনি। এভাবে হাজার হাজার কৃষক ঘন ঘন লোডশেডিং-এর জন্য সময়মত সেচ দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন। তারা আলু, পেয়াজ, ভুট্টা, রসুন ও বোরো চাষে সেচ দিতে পারছেন না। রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রামাঞ্চলে কিছু মাত্রায় লোডশেডিং হচ্ছে। গত সোমবার রাজশাহী পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতে চাহিদা থাকলেও পাওয়া গেছে ৫০ মেগাওয়াট। ফলে বাকিটা লোডশেডিং করতে হয়েছে।