তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ক্ষিরার হাট। উপজেলার দিঘুরিয়া, কোহিত ও রানীর হাট এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ক্ষিরা কেনাবেচা। মৌসুম এলেই এই হাটগুলো ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ মেট্রিক টন ক্ষিরা এসব হাট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ ক্ষিরা ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে ক্ষিরা উৎপাদন বেড়েছে। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। অনেক কৃষক জানান, খিরা চাষ এখন তাদের জন্য একটি লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। আগামী মৌসুমে চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
দিঘুরিয়ার ক্ষিরার হাট এ অঞ্চলের অন্যতম বড় ক্ষিরা বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে পাইকাররা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে খিরা কিনে নেন। পরে ট্রাকযোগে সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
ক্ষিরাচাষি রিপন সরকার বলেন, গত বছর এক বিঘা জমিতে খিরা চাষ করে ভালো লাভ হয়েছিল। তাই এ বছর তিন বিঘা জমিতে খিরা চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে।
আরেক কৃষক রহমান মোল্লা বলেন, আমি চার বছর ধরে খিরা চাষ করছি। অন্য ফসলের তুলনায় খিরা চাষে লাভ বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মণ ফলনের আশা করছি।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার ফসলি জমি খিরা চাষের জন্য উপযোগী। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছেন। এতে অন্যান্য ফসলের তুলনায় খিরা চাষে কৃষকেরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে দিঘুরিয়ার খিরা দেশের বড় বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।