মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা

দিগন্ত জোড়া বিস্তৃত মাঠে হলুদের আভা নরসিংদীর মাধবদীতে। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। মাঠজুড়ে যেন হলুদ রঙের গালিচা বিছানো। রঙের পাশাপাশি সরিষার হলুদ ফুলের গন্ধ মাতিয়ে তুলেছে পুরো এলাকা। রঙ আর সুবাসে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক রূপে।

মাধবদীর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এবার কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা ফুলে ভরে গেছে বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলের মাঠ। সেই সঙ্গে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আবাদ বেশি হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিমিত পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো আশা করছেন কৃষকরা।

মাধবদীর মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বর্দ্দ গ্রামের কৃষক জাকারিয়া বলেন, ‘এবার ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। যে কারণে সরিষার কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি।

বালুচর গ্রামের কৃষক মোমেন মিয়া বলেন, সামনে কোনো প্রাকৃতি দুর্যোগ না হলে ৮০ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেছি আমরা ১২ থেকে ১৫ মণ ফলন পাব বলে আশা করছি। তেলের যে দাম কিনে খাওয়ার মতো অবস্থা নেই আমাদের। এবার সরিষার ফলন হলে সয়াবিন তেলের ওপর আমরা আর নির্ভর করব না। আমরা এবার নিজেদের জমির উৎপাদিত সরিষার তেল দিয়েই সারা বছর রান্না ও অন্যান্য কাজ চালাব। সরিষা আবাদে আমাদের আমাদের পরামর্শের জন্যে কৃষি বিভাগের কাউকেই কাছে পাইনি, এমন অন্যান্য মৌসুমেও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকেও কোন মাঠ পরামর্শের জন্য খুজে পাওয়া যায় না, একজন কৃষক আরেকজন কৃষকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হয়।

একজন কৃষক বলেন, (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) আমরা কৃষক, কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্ভর করে চলি, সব মৌসুমেই ফসল ফলাই, অথচ শস্য আবাদের সময় বা ফসলের ভরা মৌসুমেও কোন কৃষি অফিসের কোন মাঠকর্মকর্তাদের দেখা পাইনি, এমনকি কোন মাঠকর্মী আছে কিনা জানা নাই। যে কারণে ফসলের মাঠে কোন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা মাঠকর্মী কাউকেই পরামর্শ নেয়ার জন্যে পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে সুজন-সুশানের জন্য নাগরিক এর নরসিংদী জেলা সম্পাদক হলদর দাস বলেন, “ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো, শস্য নিবিড়তা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা জরুরি প্রয়োজন। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এনে কৃষকদের সার ও বীজ দেয়া দরকার। ফলন ভালো পেতে কৃষি অফিসারদের নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া প্রয়োজন। এতে সরিষা সহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ও ফলন বাড়বে বলেই আমি মনে করি।”