আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা : শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত রোববার সকাল থেকে জেঁকে বসা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বড় পরিসরে আবাদের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা অনেক বীজতলার চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় ঠাণ্ডার প্রকোপ আরও বেড়েছে। চারা রক্ষায় প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে কৃষকেরা মাঠে নেমে পড়েছেন। কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন, কেউ হালকা সেচ দিচ্ছেন। আবার কেউ পুষ্টি উপাদান ও কীটনাশক স্প্রে করছেন। কৃষকেরা বলছেন, বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে বাড়তি সময় ও খরচ, দুটোই বাড়বে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের কৃষক খাইবার আলী ও মশিউর রহমান জানান, মিনিকেট ও হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদের লক্ষ্যে তারা বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহে প্রায় পাঁচ বিঘা জমির বীজতলার চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতি কমাতে প্রায় দুই হাজার টাকার পলিথিন কিনে বীজতলা ঢাকার চেষ্টা করছেন তারা। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জেলার অন্যান্য এলাকার কৃষকেরাও।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহজনিত ক্ষতি কমাতে কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বীজতলা রক্ষায় ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ (কুইক বা ফাস্ট পটাশ), ৩০ গ্রাম থিওভিট ও ২০ গ্রাম চিলেটেড জিংক মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা সেচ এবং পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে চারা রক্ষা করা সম্ভব।’

শীতের প্রকোপ ও কুয়াশা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতক্ষীরায় বোরো ধানের বীজতলা লাল হয়ে যাচ্ছে। সূর্যের দেখা না পাওয়া পর্যন্ত দিন ও রাতের দীর্ঘ সময়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে বীজতলা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় তিন হাজার ৭৭৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি হয়েছে। এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৪৫০ হেক্টর জমিতে। সাতক্ষীরা শহরতলীর কাশেমপুরের কৃষক শহীদুল ইসলাম, বালিয়াডাঙার মোতাহার নেওয়াজ মৃণাল জানান, সাতক্ষীরায় আমন ধান কাটা শেষ না হতেই এবার মাটিতে ও ট্রেতে করে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদরের কাশেমপুর বিল, শ্যালের বিল, ডেইয়ের বিল, দেবনগর বিল, যোগরাজপুর বিলসহ জেলার সাতটি উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় আগে ভাগে বোরো ধান রোপন শুরু হয়েছে। এবার ২৮, ৪৭, ৬৭, ৮৮ জাতের বোরো চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে ২৮ জাতের। তবে হঠাৎ করে শীত ও কুয়াশার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছে বীজতলা। ফলে কাক্সিক্ষত ধান উদপাদন না হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।