নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণ কার্যক্রম। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বোরো মৌসুমের কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সময়মতো জমি প্রস্তুত ও চারা উৎপাদনের কাজ শেষ করে তারা ধীরে ধীরে রোপণ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এ বছর বোরো চাষে বাড়তি আশাবাদ দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করে রোপণ কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস জানান, নবাবগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধানের রোপণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তবে এখনো তা পুরোপুরি জোরালোভাবে শুরু হয়নি। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত প্রায় ৮ শতাংশ জমিতে বোরো ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় থেকে ৭ দিনের মধ্যে রোপণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সার, বীজ ও সেচ পানির কোনো সংকট নেই, যা বোরো চাষের জন্য ইতিবাচক দিক।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিবিড় বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় চলতি বোরো মৌসুমে নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হবে ৫ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে এবং উফশী জাতের ধান চাষ হবে ১২ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করে উপজেলার হাট-বাজার ও কৃষি সংশ্লিষ্ট খাতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কৃষকেরা আশা করছেন, সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকলে এ বছর বোরো ধান চাষ লাভজনক হবে।