দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : একসময় দাউদকান্দির গ্রামগুলোর মেঠো পথের পাশ দিয়ে হাঁটলেই নাকে আসত খামারের গন্ধ আর কানে আসত মুরগির কলকাকলি। উপজেলার হাজার হাজার যুবকের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন ছিল এই পোল্ট্রি শিল্প। কিন্তু সেই চিত্র এখন অতীত হতে চলেছে। ক্রমাগত লোকসানের ভার সইতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক খামার। পড়ে আছে জরাজীর্ণ টিনের চাল আর বাঁশের খুঁটিসম্বলিত খামারের কঙ্কাল। বর্তমানে দাউদকান্দিতে হাজার হাজার পোল্ট্রি খামার বন্ধের পথে, আর এর ফলে কর্মসংস্থান হারাচ্ছে শত শত যুবক।পোল্ট্রি শিল্পের এই ধসের মূল কারণ হিসেবে খামারিরা দায়ী করছেন মুরগির খাদ্যের (ফিড) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে। একদিকে খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে বাজারে মুরগির ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে খামারিদের জন্য। উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করে খরচের টাকাই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা।
দাউদকান্দির এমনই এক ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক রেজাউল করিম রাজিব। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্রয়লার মুরগির খামার। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তিনি দিশেহারা।
রাজিব বলেন, “মুরগির খাদ্যের দাম অত্যধিক হারে বাড়ার কারণে এবং সেই তুলনায় বাজারে মুরগির দাম কমে যাওয়ায়, এই খামার ব্যবসায় আমাদের দিন দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। আমরা এখানে শুধু বয়লার মুরগি পালন করতাম। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই দায়।” রাজিবের মতো উপজেলার হাজারো উদ্যোক্তা এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে খামার গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। যে শিল্পটি একসময় গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল, তা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।শুধু মালিকরাই নন, এই শিল্প ধসে পড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এখানে কর্মরত শ্রমিকদের ওপর। খামার বন্ধ হওয়ায় কাজ হারাচ্ছেন শত শত মানুষ।