মাগুরা থেকে ওয়ালিযর রহমান: মাগুরার বিভিন্ন মাঠে মাঠে হলুদ সরিষা ফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে চারিদিকে হলুদের সমারোহ। মাঠে সরিষার ফুল দেখে মনে হয়, যেন কেউ হলুদের গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। সরিষা ফুলের এই হলুদের হলুদের ভাব প্রকৃতিকে করেছে সৌন্দর্য মন্ডিত। হলুদের এই সরিষা ফুল দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন মাঠে মাঠে। কেউ সরিষা ফুলের মাঝে তুলছেন ছবি, ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির এ অপরূপ চিত্র।
মাগুরা সদরের আবালপুর, দেড়ুয়া, পাকাকাঞ্চনপুর, সত্যপুর, রাঘবদাড়, পাটকেলবাড়ি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা গেছে চারিদিকে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। আবার কোন কোন মাঠে হলুদ ফুল থেকে সরিষার ফল হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় সরিষার বাম্পার হবে বলে আমরা আশা রাখছি। ইতি মধ্যেই মাগুরা জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুল শোভা পাচ্ছে। আবার অন্য কোন মাঠে ফুল থেকে ফল আসতে শুরু করেছে। এবার জেলায় ২২ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সদরে ১০ হাজার ৪০৮ হেক্টর, শ্রীপুরে ১ হাজার ৪০৫ হেক্টর, শালিখায় ৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর ও মহম্মদপুরে ৩ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ বছর সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৯০ হেক্টর।
মাগুরা সদর উপজেলার নরসিংহাটি গ্রামের সরিষা চাষী জামিল মিয়া জানান, এবার আমি ২ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। এ চাষে খরচ কম, পরিশ্রম নেই। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষা খুব ভালো হয়েছে। আমার জমিতে এখন সরিষার আসতে শুরু করেছে। আমি দুই মাসের মধ্যেই সরিষা ঘরে ওঠাতে পারব বলে মনে করছি
মাগুরার ছয়চার গ্রামের কৃষক শফিকুল জানান, এবার সে ১ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন।এ চাষে সে প্রতিবারই ভালো ফল পেয়ে থাকে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমার জমিতে সরিষার ভালো ফলন হবে বলে আশা রাখছেন চাষিরা।
সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের নাজিম উদ্দিন জানান, সে এবার তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। এ চাষে বছর সে ভালো ফলন পাবে। এখন সরিষা মাঠে মাঠে হলুদ ফুল শোভা পাচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই ফুল থেকে সরিষার ফল আসতে শুরু করবে। তারপর দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সরিষা পাকা শুরু করবে।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃযিবিদ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তীব্র শীত, কুয়াশা ও শৈত প্রবাহে সরিষার তেমন ক্ষতি হবে না বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ এবার এ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।