মো. জাহাঙ্গীর আলম, কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের শিবনগর শ্মশান মাঠে ভিয়েতনামের নতুন জাতের সরিষা চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান। মাত্র ৬০০ টাকার বীজ দিয়ে ১৮ কাঠা জমিতে চাষ করা ‘ভিয়েতনাম-৯৯৯’ হাইব্রিড জাতের সরিষার বাম্পার ফলন দেখে এখন এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

স্বল্প খরচে অধিক ফলন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান জানান, তিনি কৌতূহলবশত মাত্র ১০০ গ্রাম ‘ভিয়েতনাম-৯৯৯’ জাতের হাইব্রিড সরিষার বীজ অনলাইনে দেখে ৬০০ টাকায় ক্রয় করেন। নিজের ১৮ কাঠা জমিতে আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে এই ১০০ গ্রাম বীজ এর মধ্যে ৩০ গ্রাম বীজ ৩ ফুট অন্তর লাইন দিয়ে বপন করেন । বর্তমানে তার ক্ষেতে সরিষার যে ফলন দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় সাধারণ জাতের তুলনায় অনেক বেশি ফুল ফল ধরে।

স্থানীয় কৃষকরা মধ্যে সজিব আসাদুল, শাহাজান, রহিম সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা মশিয়ার রহমানের সরিষা ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন প্রতিদিন। তারা জানান, এই জাতের সরিষার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মতো।

আমাদের দেশের মধ্যে সাধারণ সরিষার চেয়ে এই জাতের সরিষা গাছ অনেক বেশি শক্তিশালী ও শাখা-প্রশাখাযুক্ত। প্রতিটি ছড়ায় দানার সংখ্যা অনেক বেশি এবং দানাগুলো আকারে বেশ বড় ও পুষ্ট। অল্প পরিমাণ বীজ ব্যবহার করেও পুরো জমি ঘন ও ফলনশীল হয়ে উঠেছে।

কৃষকদের মাঝে এখন নতুন আশা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, “প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করলেও এখন ফলন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয় অনেক কৃষকই আগামীতে এই জাতটি চাষ করার জন্য পরামর্শ নিতে আসছেন। দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে এবং স্বল্প ব্যয়ে স্বল্প সময়ে লাভজনক চাষ হিসেবে এই জাতটি দেশে একটি মাইলফলক হতে পারে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিচর্যা এবং এই উন্নত জাতের বীজের বিস্তার ঘটানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে সরিষার উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এবিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন।আমাদের একজন কর্মকর্তা এই এলাকায় চাষ শুরু করেছেন। পরিক্ষামূলক আমীর চাষ শুরু করেছি প্রতি গাছে ৫ শ গ্রাম পর্যন্ত সরিষার ফলন হওয়ার কথা তবে ফলনশীল হলে কৃষকদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হবে এই চাষের প্রতি।বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভীড় জমান এই সরিষা ক্ষেত দেখতে।