চুইঝাল । খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার মানুষের ঐতিহ্যের অংশ এই মসলা। শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ানো নয়, এর রয়েছে অসংখ্য ভেষজ গুণও। গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ক্ষুধা বাড়ায়, হজমে সহায়তা করে, পাকস্থলীর দাহ সারায়, কাশি, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট কমায়, শরীরের ব্যথা ও মানসিক অস্থিরতা দূর করে, চুইঝালের কান্ড, শিকড়, পাতা, এমনকি ফুল ও ফলও ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ। এক সময় চুকনগরের আব্বাস হোটেল ছিল চুইঝালের মাংসের জন্য বিখ্যাত। এখন খুলনার জিরো পয়েন্টসহ নানা স্থানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য রেস্তোরাঁ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। ঢাকাসহ দূর-দূরান্তের মানুষও শুধুমাত্র এই বিশেষ স্বাদের জন্য ছুটে আসেন খুলনায়। ২০১৫ সালে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজিত এক প্রশিক্ষণে অংশ নেন নবদ্বীপ মল্লিক। সেখানে চুইঝাল চাষ সম্পর্কে শোনেন তিনি। কৌতূহল থেকে হাতে নেন কৃষি অফিসের দেওয়া কয়েকটি চারা। পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো চারাগুলো আশাতীত সাফল্য এনে দেয়। ধীরে ধীরে তিনি নিজেই কাটিং থেকে চারা উৎপাদন শুরু করেন। প্রথমদিকে কৃষি অফিস তাঁর কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করত। সেই ক্ষুদ্র সূচনাই নবদ্বীপের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

মাত্র এক বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা তাঁর চারা উৎপাদন কেন্দ্র আজ কোটি টাকার সমমূল্যের চারা বিক্রির কেন্দ্রবিন্দু। গত দশ বছরে তিনি বিক্রি করেছেন দেড় কোটি টাকার বেশি চারা। বর্তমানে তাঁর ‘মেসার্স নবদ্বীপ নার্সারি’ থেকে মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়। প্রতিটি চারা বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। শুধু দেশেই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশেও পৌঁছেছে তাঁর উৎপাদিত চারা। নবদ্বীপ শুধু চুইঝাল চাষেই থেমে থাকেননি। খামারে রয়েছে আধুনিক আল্ট্রা হাইডেন সিটি সিস্টেমের আমবাগান, ড্রাগন ফলের বাগান, মাছভরা পুকুর, মুরগির খামার- সব মিলিয়ে এক বহুমুখী কৃষি খামার। ফলে মাছ, দুধ, ডিম বা সবজি কেনার প্রয়োজন হয় না তাঁর পরিবারের। পাশাপাশি খামারে কাজ করছেন সাতজন কর্মচারী, যা কয়েকটি পরিবারের জীবিকার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।