চট্টগ্রাম হাটহাজারী সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমন ধান কাটার পরপরই কৃষকরা জমিতে সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন। স্বল্প সময়, কম খরচ ও লাভজনক হওয়ায় এ ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বোরো ধান চাষ শুরুর আগেই সরিষা ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হাটহাজারীতে প্রায় ৯২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এতে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন সরিষা বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বীজ থেকে প্রায় ৪৬০ মেট্রিক টন ভোজ্য তেল এবং ৬৯০ মেট্রিক টন খৈল উৎপাদিত হবে।

সরিষা বীজের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া উৎপাদিত তেলের বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং খৈলের বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে সরিষা আবাদ থেকে কৃষকদের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার ৪ জন কৃষক সরিষা আবাদে যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ২০৪ জন কৃষক বিভিন্নভাবে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ৩৫০ জন, প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আওতায় ৫৪ জন, বীজ সহায়তা পেয়েছেন ৩০০ জন এবং উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বীজ ও সার সহায়তা পেয়েছেন ৫০০ জন কৃষক। এ ছাড়া প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন কৃষক নিজস্ব উদ্যোগে সরিষা চাষ করেছেন।

উপজেলার ফরহাদাবাদ, মির্জাপুর, ধলই, ফতেপুর ইউনিয়ন, হাটহাজারী পৌরসভা এবং চসিক দক্ষিণ পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরিষার মাঠ চোখে পড়ার মতো। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অল্প পুঁজিতে ভালো লাভ হওয়ায় অনেক এলাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে।

সরিষা চাষের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৬ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৯ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন বীজ, ৩ দশমিক ৯ মেট্রিক টন তেল এবং ৫ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন খৈল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যমুখী বীজের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা, তেলের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং খৈলের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “সরিষা ও সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হবে।”