মো. শাহজামাল শাওন, ফুলবাড়ি (কুড়িগ্রাম) : বাংলাদেশের কৃষিখাতে এখন এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। একসময় যেখানে কৃষকের প্রধান ভরসা ছিল ধান ও গম, সেখানে এখন ফলজ ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন তরুণ কৃষকরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে তারা গড়ে তুলছেন সাফল্যের নতুন গল্প। সেই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের তরুণ কৃষক আশরাফুল আলম আনন্দ হয়ে উঠেছেন এলাকার অনুপ্রেরণার প্রতীক।

পরিবারের উৎসাহে মাত্র দুই বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করে প্রথম বছরেই তিনি আয় করেছেন এক লক্ষ টাকার বেশি। বছর দুয়েক আগে তিনি বারী-১ দেশি জাত ও আফ্রিকান জাতের প্রায় সাড়ে ৩৫০টি মাল্টা চারা এবং ১০০টি দার্জিলিং জাতের কমলার চারা রোপণ করেন।

বর্তমানে তার সবুজে ঘেরা বাগানে ঝুলছে গাছভর্তি মাল্টা। এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন বাগান দেখতে। অনেকেই আনন্দের সাফল্য দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং নিজে মাল্টা চাষের পরিকল্পনাও নিচ্ছেন।

একজন দর্শনার্থী বলেন, বাড়ির পাশে আনন্দ ভাইয়ের মাল্টা বাগান দেখতে এসেছি। বাগান ঘুরে দেখেছি, মাল্টা খেয়েছি সত্যিই খুব রসালো ও মিষ্টি। প্রথমবারেই এত ফল এসেছে দেখে অবাক হয়েছি। সফল মাল্টা চাষি আশরাফুল আলম আনন্দ জানান,“পরিবারের উৎসাহেই মাল্টা চাষ শুরু করি। প্রথমে ভয় ছিল ফলন কেমন হবে, কিন্তু এখন গাছভর্তি মাল্টা দেখে মনে হচ্ছে পরিশ্রম সফল হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় এক লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন, বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রাফিকা আক্তার বলেন,আশরাফুল আলম আনন্দ একজন সফল মাল্টা চাষি। তার বাগান দেখে অন্যান্য কৃষকও মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি চাইলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।”

এই তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্য প্রমাণ করেছে— পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করলে বাংলাদেশের মাটিতে ফলতে পারে সোনার ফসল। মাল্টা চাষ শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, বরং বদলে দিচ্ছে গ্রামের কৃষি অর্থনীতি ও যুব সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি।