রাজশাহীতে পিঁয়াজের পর এবার আলুর দাম পাওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। সেই সাথে আলু রাখার জন্য পাটের বস্তার সংকট চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত সপ্তাহের খবরে জানা গিয়েছিল যে, রাজশাহীতে রেকর্ড ফলনেও পেঁয়াজ চাষে লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে দামে ধস নামায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা। এজন্য বিদেশ থেকে আমদানিকে দূষছেন কৃষকরা। এবার সংকট দেখা দিয়েছে আলু নিয়ে। মাঠ পর্যায়ের খবরে জানা যায়, রাজশাহীতে বিগত কয়েক বছর ধরে আলু চাষ করে লোকসান গুনছেন চাষিরা। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। ফলে বিগত বছরের তুলনায় রাজশাহীতে এবার আলুর চাষ কম হয়েছে। তবে যে পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে ফলন ভালো পেলেও কৃষকরা এবারও আলুর কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না। এতে আলু নিয়ে কৃষকের মুখে হতাশার ছাপ। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯ টাকা থেকে ১০ টাকায়। এতে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রাজশাহীতে আলু আবাদ হয়েছিল ৯৫ হাজার একর জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮৬ হাজার ৫০০ একর। কিন্তু চাষ হয়েছে ৮৪ হাজার ৫০০ একরে।

তানোরের একজন কৃষক জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তার ৫০০ বস্তা চালু হয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার ১৬ টাকা কেজি দরে আলুর দাম মিটিয়ে ব্যবসায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম বায়না দিয়ে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই ব্যবসায়ী আলুর দাম ১৩ টাকার বেশি নিতে পারবেন না জানিয়েছেন। অগ্রিম টাকাও ফেরত নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

জেলার সবচেয়ে বেশি ও ভালো জাতের আলু চাষ হয় তানোর উপজেলায়। সেখানকার চাষিরাও এবার আলু চাষ কম করেছেন। গত বছর তানোরে ৩৩ হাজার একর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। এবার হয়েছে ৩০ হাজার একরে। রাজশাহী বাগমারার একজন আলু চাষি জানান, বিগত বছর লোকসান খেয়ে তিনি এবার অল্প পরিসরে এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তুলনামূলক ভালো ফলনও পেয়েছেন। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) আলু উৎপাদন হয়েছে। এখন বাজারে প্রতিবস্তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘায় ২৪ হাজার থেকে ৩১ হাজার টাকার আলু বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আলু উৎপাদন করতে বিঘাপ্রতি ব্যয় হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতে এবারও আলুর দাম নেই। লোকসান গুনতে হচ্ছে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আরো অনেক চাষিই জানালেন এমন কষ্টের কথা। তবে এর সমাধান নেই কারো হাতে।

আলু সংরক্ষণেও সংকট

এদিকে আলু সংরক্ষণেও চলছে সংকট, এই সংকট বস্তার। সূত্র জানায়, এ বছর রাজশাহীতে গত বছরের তুলনায় আলুর বস্তার দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এর প্রভাব পড়েছে আলুর দামে। বস্তার দাম বেশি হওয়ায় কেজিতে আলুর দাম পড়ে গেছে ৩ টাকা। তবু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। বস্তার অভাবে বাড়ির পাশে আলু স্তূপ করে রাখছেন চাষিরা। তারা বলছেন, গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এবার সেই বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। গতকাল সেই বস্তার দাম উঠেছে ১৯৫ টাকা। এনিয়ে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, হিমাগার মালিকেরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বস্তার দাম বাড়াচ্ছেন। তবে একটি হিমাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, “এবার আলুর বস্তার মহাসংকট। গতবার যারা বস্তা বানিয়েছিল তার সবগুলো বিক্রি হয়নি। সেই ভয়ে এবার তারা বাড়তি বস্তা উৎপাদন করেনি। যে কারণে এখন বস্তার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এনিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না সেটা কেনাবেচা করা লোকেরা হয়তো বলতে পারবেন।” রাজশাহী কৃষি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের সংকটের কথা কেউ তাদের জানায়নি। আর জানলেও এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার নেই।”