বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় সরকারের ভর্তুকি মূল্যে ডিএপি সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছে বাগমারার আলু চাষীরা। খোলা বাজারে সার বিক্রি বন্ধ করায় এ সংকট বেশী হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা দাবি করছেন। রবি মওসুমের প্রধান ফসল আলুর দাম ধসের লোকশান কাটিয়ে না উঠতেই সার সংকটে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তবে কৃষি অফিস এ সংকট প্রকট মনে করছেন না। আলু চাষের বরাদ্দের সার শ্রীঘ্রই আসলে এ সংকট থাকবে না বলে দাবি করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্তমানে রবি মওসুমের প্রধান ফসল আলু বীজ রোপনের উপযুক্ত সময়। আলুচাষে ফসফেট, ইউরিয়ার সঙ্গে একান্ত প্রয়োজন ডিএপি সার। অন্যান্য সার পাওয়া গেলেও উপজেলায় ডিএপি সার সংকট দেখা দিয়েছে। দুই একটি খুচরা দোকানীর কাছে ওই সার পাওয়া গেলেও তার অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি চলছে। এখন জমিতে আলুচাষের উপযুক্ত সময়ে হলেও আলু চাষীরা তাদের চাহিদা মত সার জোগাড় করতে ডিলারদের দোকানে দোকানে ধর্না দিয়েও সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এই অবস্থায় বাগমারায় এবার আলু চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিযেছে। ভবানীগঞ্জ বাজারে সার ক্রেতা গোপালপুর গ্রামের মীর বক্স জানান, ডিএপি সার ক্রয় করতে গেলে ডিলাররা সার নেই বলে জানাচ্ছেন। তবে বাজার গুলোর ছোট ছোট দোকানে স্বল্প পরিমাণ ডিএপি সার দেখা মিলছে। দামে তা চড়া। দোকানীদের ভাষ্য মতে তারা অন্য উপজেলা হতে বেশী দামে সার ক্রয় করে এনে বিক্রি করছে। এতে করে তাদের সামান্য লাভ হচ্ছে। সরকারী ভাবে খুচরা বাজারে সার বিক্রি নিষিদ্ধ। এতে করে সার সংকট দেখা দিয়েছে বলে তার দাবি করেন। উপজেলায় যে পরিমান ডিএপি দরকার তা বরাদ্দ নেই। ফলে বাইরে হতে সার নেয়া যাচ্ছে না। খোলা বাজারে বিক্রি করতে বাধাঁ করায় তারা সার বিক্রি করতে পারছেন না। যে এলাকায় ডিএপি সার প্রয়োজন নেই বা রবি ফসরের তেমন চাষ নেই। সে এলাকা হতে ডিএপি সার আনলে তাতে কিছুটা হলেও কৃষকদের উপকারে আসব বলে তারা জানান। উপজেলার কয়েকটি বাজারের ছোট সার দোকানীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, উপজেলায় ডিএপি সার না পেয়ে উপজেলার বাইরের বাজার হতে ১১৫০/- টাকা দামের সার ১৫০০/- টাকা ক্রয় করতে হয়। বাদ্য হয়ে কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু এ বাদ সেজেছে প্রশাসন। কৃষকের দাবি মওসুমের আলু বড় ধরনের ফসল। পরিমিত ডিএপি না হলে আলুচাষের খরচ ঠিকই হবে। কিন্তু ফলন কম হলে তাদের লোকশানের পরিমান বেড়ে পথে বসতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বাগমারা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলার কৃষকদের প্রয়োজন মত সব সার রয়েছে। উপজেলায় ডিএপি সারের বরাদ্দ কম ছিল। কেন না, ওই সময়ে সার আর আলুর সার ভিন্ন। আলুর এলোট আসলেই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি জানান। এছাড়া কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব সারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।