লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। এক সময় এ অঞ্চলে সয়াবিন ও বাদাম চাষের সুনাম থাকলেও বর্তমানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ফলে মাঠজুড়ে এখন হলুদ ফুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। সরিষার ক্ষেতে কৃষাণ-কৃষাণীদের ব্যস্ততা যেন এক নীরব কৃষি বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে। কৃষকেরা এখন ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের আশায় অনেক কৃষকই এবার অন্য ফসলের বদলে সরিষা চাষ করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, তুলনামূলক কম খরচে এবং স্বল্প সময়ে সরিষা চাষ করা যায়। পাশাপাশি বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় এ ফসল চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। অনেক কৃষকই আশা করছেন, এবার ভালো দাম পেলে তাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আয় বাড়িয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ছে এবং কৃষকেরাও সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এধরণের সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রামগতি উপজেলাও সরিষা উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।