সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) থেকে ফারুক আহমেদ : সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গাতে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় শীতকালীন বিভিন্ন ফসল ভালো হলেও ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো বীজতলা। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে সৃষ্ট কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে পচে নষ্ট হচ্ছে নাবি বীজতলার চারা। এতে উপজেলায় বোরো আবাদে চারা সংকটের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এতে সলঙ্গাতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে।

রায়গঞ্জ উপজেলাতে চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১২০০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যেসব চাষি আগাম বীজতলা তৈরি করেছেন, তাদের বীজতলা নষ্ট হয়নি। তবে তীব্র শীতের কারণে উপজেলায় অন্যান্য ফসল গম, সরিষা, ভুট্টা ও সবজির চাষ খুব ভালো হয়েছে।

জানা গেছে, বীজতলা তৈরির জন্য প্রতি কাঠা জমি লিজ নিতে খরচ হয়েছে ১ হাজার টাকা। বীজ কিনতে হয়েছে ৮০০ টাকার। এ ছাড়া সার, সেচ, কৃষিশ্রমিকের মজুরি খরচ মিলে আরও হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, প্রতি কাঠা বীজতলার চারা দিয়ে চার বিঘা জমিতে ধান রোপণ করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে বীজতলার যে অবস্থা, তাতে ১০ কাঠা এবং সর্বোচ্চ এক বিঘা ধান রোপণ করা সম্ভব হবে। চাষিরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বোরো চাষের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, শৈত্যপ্রবাহ শেষে কিছুটা উষ্ণ আবহাওয়া শুরু হলে চারার খুব একটা ক্ষতি হবে না। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উপজেলার সোনাখাড়া, ৩নং ধুবিল ইউনিয়নের নিমগাছিপুল্লাহ, আমশড়া, ইছিদাহ, চুনিয়াখাড়াসহ সলঙ্গা থানার সলঙ্গাসদর, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠের বীজতলা ঘুরে দেখা গেছে, বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। যেগুলো এখনও বেঁচে আছে, সেগুলো বাঁচাতে ছত্রাকনাশক, বীজতলার উপরে পলিথিন বিছানো, স্প্রেসহ বিভিন্নভাবে পরিচর্যা করছেন কৃষক।

আজ একটু রৌদের দেখা মিললেও বীজতলা নষ্ট হওয়ায় ধানের চারার দামও এবারো বাড়বে বলে আশস্কা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে। গত বছর প্রতি কাঠা জমির বীজতলার চারার দাম ছিল তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। এ বছর একই পরিমাণ জমির চারা চার দুই থেকে তিন গুণ বাড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে কৃষকদের মনে। ফলে এতে চাষিদের বোরো উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে।

উপজেলার ৩নং ধুবিল ইউনিয়ন এলাকার শ্যামিরঘন গ্রামের বোরোচাষি গণেশ, শ্রী সুকেশ বর্মন জানান, তারা ১৫ বিঘা জমিতে ধান লাগানোর জন্য বীজতলা দিয়েছিলেন। তবে ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে বীজতলার ১৫ থেকে ২০ ভাগ চারা পচে গেছে। একই ইউনিয়নের আমশড়া গ্রামের বর্গাচাষি হাফিজুল ইসলাম জানান, এবার ঘন কুয়াশায় ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। আশপাশের সব কৃষকের একই অবস্থা।

ধানের চারা যিনি কিনে লাগাবেন, সেটা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, কুয়াশাজনিত ক্ষতি কমাতে বীজতলায় পলিথিনের ছাউনি দেয়াসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক ব্যবহারেরও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছেন।