এম এ জাফর লিটন শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মাঠে মাঠে হাসছে সূর্যমুখী ফুল। বসন্ত বিলাসে চারদিকের সবুজ মাঠে এ ফুল হলুদ আভার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। সূর্যমুখী দর্শকদের হৃদয়ে দোল খেলে গেলেও এটি মূলত ফুল হিসেবে চাষ নয়। এর বীজ থেকে তৈল উৎপাদনের জন্য এ ফুলের চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি গো-খাদ্য হিসেবে খৈলও উৎপাদিত হয়।

উপজেলার বড় ধুনাইল ও বিন্যাদাইর গ্রামে কৃষকের পতিত জমিতে ফুটে আছে শত শত সূর্যমুখী ফুল। জানা যায়, কৃষি অধিদপ্তরের তৈলবীজ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা নিয়ে জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হওয়ার সাথে সাথে ফুলে ফুলে ভরে গেছে সূর্যমুখীর ক্ষেতটি। যা দেখে মুগ্ধ কৃষকসহ দর্মনার্থীরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফসলের মাঠে সবুজ গাছে হলুদ ফুল অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করেছে। সবুজ পাতার ভেতর থেকে বড় বড় হলুদ সূর্যমুখী ফুলগুলো মাথা উচুঁ করে প্রকৃতিতে নিজের সৌন্দর্য জানান দিচ্ছে। স্থানীয় দর্শনার্থীদের মাধ্যমে সূর্যমুখী ফুলের মাঠের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ দল বেঁধে আসতে শুরু করেছে ফুলের মাঠ দেখতে। অনেকেই মাঠের ভিতরে ঢুকে শখ করে ছবি তুলেন। এতে করে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে কৃষককে।

কৃষক আলমাছ আলী বলেন, ফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীরা ক্ষেতে ঢুকে ছবি তুলতে গিয়ে অনেক সময় গাছ ভেঙ্গে ফেলে ও ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যায়। এতে করে সূর্যমুখী ক্ষেতের ক্ষতি হয়ে যায়।

শাহজাদপুর শহর থেকে আসা কলেজ ছাত্র তাওহীদ হোসেন বলেন, সূর্যমুখী ফুলের নান্দনিকতা উপভোগ করতে বন্ধুদের সাথে এই জমিতে এসেছি। ছবি তুলছি, ভিডিও করছি। খুব ভালো লাগছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের দেশে বেশিরভাগ তেল বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এই আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রণোদনা কার্যক্রমের আওতায় সূর্যমুখীর চাষ করা হচ্ছে। এবছর শাহজাদপুর উপজেলায় প্রায় ৩ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখী ফুলের তেলে কোলেস্টেরল না থাকায় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।