গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : এ বছর সময়মতো সার ও মানসম্মত বীজ না পাওয়ায় ভোলাহাট অঞ্চলে মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন আশানুরূপ হয়নি। ফলন কম এবং বাজারদর প্রত্যাশার নিচে থাকায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন শত শত কৃষক। এতে করে কৃষক পরিবারগুলোতে দেখা দিয়ছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বল্প খরচে ভালো লাভের আশায় গত কয়ক বছর ধরে ভোলাহাটে মিষ্টি কুমড়ার চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে চলতি মৌসুমে সার-বীজ সংকট, নিম্নমানের বীজ এবং অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর এই অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়ছিল। তবে বাজারদর কমে যাওয়া ও লোকসানের আশঙ্কায় এ বছর চাষ নেমে এসেছে মাত্র ১০ হেক্টরে। এর ওপর সার সংকট ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে ফলন আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে যেখানে এক বিঘা জমিতে ৫০ থেকে ৬০ মণ কুমড়া উৎপাদন হতো, সেখানে এ বছর মিলছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মণ। এতে উৎপাদন খরচ তুলনায় আয় অতি নগণ্য হয় দাঁড়িয়ছে।

কৃষক তামিজ উদ্দিন বলেন, “সময়মতো সার পাইনি। বাইরে গিয়ে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দাম দিয়েও অনেক সময় সার পাওয়া যায়নি।”

চাষি আব্দুস সামাদ জানান, “১১ বিঘা জমিতে চাষ করতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ বিক্রি করে হয়তো ৫০ হাজার টাকাও তুলতে পারব না।”

আরেক কৃষক নাসিরুদ্দিন বলেন, “বীজ খারাপ ছিল, সার সংকট ছিল আর সঙ্গে আবহাওয়ার সমস্যাও ছিল। সব মিলিয়ে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

কৃষকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই সার পাওয়া গেলেও দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়েছে, যা লোকসান আরও বাড়িয়েছে। তারা সার ও বীজ সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুলতান আলী বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। আগে গুজবের কারণে কৃষকেরা বেশি করে সার কেনায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল। অনেক কৃষক বাইরে থেকে নিম্নমানের বীজ নেয়ায় উৎপাদন কম হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামীম হোসেন বলেন, “কৃষকদের অবশ্যই অনুমোদিত ব্র্যান্ডের বীজ ব্যবহার করতে হবে। সার মজুত ও বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এলাকার চাষিরা বলছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আগামী মৌসুমে তারা মিষ্টি কুমড়া চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয়ের পথ সংকুচিত হবে, অন্যদিকে বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।