মোঃ খোরশেদ আলম কলারোয়া (সাতক্ষীরা): কলারোয়ায় বানিজ্যিক ভাবে ড্রাগন চাষে সফলতা অর্জন ও আর্থিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েছে। ব্যতিক্রম ধর্মী এ ফল চাষে যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তেমনি অর্থনৈতিক দৈন্যতা কাটিয়ে ওঠার নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে। তাই কলারোয়ার কৃষকের মাঝে ড্রাগন চাষে আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

কলারোয়া উপজেলার কাজীরহাটের মাসুম হোসেন ১০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে এলাকায় অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই ড্রাগন চাষে উৎসাহিত হয়ে কৃষকেরা এই চাষকে লাভজনক হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে কৃষকরা কৃষি জমিতে ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েছে।এই ফল চাষে কলারোয়ার কৃষকরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। প্রতি মৌসুমে ড্রাগন চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলারোয়ায় কৃষি ক্ষেত্রে ড্রাগন চাষে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আর এই ফল চাষে কৃষকরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।

মাসুম হোসেন জানান, আমি ২০০৩ সালে জামালপুর থেকে এসে কলারোয়ার কাজীরহাট বাজারে বইয়ের ব্যবসা শুরু করেছিলাম।এই ব্যবসার পাশাপাশি ২০২৪ সালে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করি । ইতোমধ্যে এই ফল চাষে সফলতা অর্জন করতে পেরেছি। এবার প্রায় চার লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি । এবং পুরো মৌসুম শেষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করি । প্রথম একটু বেশি খরচ হলেও পরে তেমন একটা হয় না। আর নিয়মিত পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।অন্য ফসলের মতো অধিক পরিমাণ সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না।এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষে অনুকূল।তাই এখানকার উৎপাদিত ফলগুলো খুব সুস্বাদু ও মিষ্টি। বর্তমান চার জন নিয়মিত প্রতিদিন ফল সংগ্রহ করে থাকেন। আর ১২/১৩জন শ্রমিক বাগানে পরিচর্যার কাজ করে যাচ্ছেন। এতে করে এলাকায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে অনেকের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা এই ড্রাগন ফল ও ফুল দেখতে ও ফল কিনতে আসেন ড্রাগন বাগানে । কলারোয়া, কাজীরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বাগান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে খুচরা ও পাইকারি ভাবে ড্রাগন ফল সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই ফলের জনপ্রিয়তা ও বাজারে চাহিদা ব্যাপক । সারিবদ্ধভাবে সিমেন্টের পিলারের সাথে লতা বেয়ে ওঠা গাছে ড্রাগন ফল ঝুলছে। ফুল, মুকুল ও পাকা ফলে ভরা বাগানটি যেন এক চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। বাগানে কর্মরত একজন শ্রমিক জানান, ড্রাগন ফুল ফোটে রাতে এবং মৌমাছি বা মাছির মাধ্যমে স্বাভাবিক ভাবে পরাগায়ণ হয়। তবে এই ফলের কৃত্রিম পরাগায়নও সম্ভব। গাছগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে জিআই তার ও সিমেন্টের খুঁটির প্রয়োজন হয়।

জানা যায়, দোআঁশ মাটিতে ড্রাগন চাষ ভালো হয়। ড্রাগন ফল গাছে ফুল আসে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। ফুল আসার ৪৫ দিনের মধ্যে ফল খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে এবং অক্টোবর পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি ফলের ওজন ২০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে হয়ে থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ৪৫ থেকে ৯০টি ফল পাওয়া যায়।

ড্রাগন ফলের বাগান দেখতে আসা কলারোয়ার রাজু আলফাজ বলেন, বাজার থেকে যে ফলটা আমরা কিনি, সেটা আজ বাগান থেকে কিনলাম। আমরা পরিবারের সকলে ড্রাগন ফল কিনতে এসে বাগান দেখে গেলাম। বাগানের ফুল ও ফলগুলো দেখতে খুবই ভালো লাগলো।ড্রাগন ফল খুবই সুস্বাদু, দামেও খুব একটা বেশি না। ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে হওয়ায় সবস্তরের মানুষের মধ্যে এই ফল কেনার আগ্রহ বেড়েছে। এখন বাজারে চাহিদার তুলনায় এর সরবরাহ কম। ড্রাগন ফল ১২০ টাকা থেকে ১৬০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম এনামুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ৫.৫ হেক্টর জমিতে ডিমরোজ জাতের ড্রাগন ফলের আবাদ হয়েছে। এই ফলের চাষ পতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৩ মেট্রিক টন ফলন হয়। কৃষি বিভাগ নিয়মিত ভাবে চাষীদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে । এখানকার মাটি ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী। পরিকল্পিত ভাবে চাষ করলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব।