মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : চলতি মৌসুমে নতুন বছরে মুরাদনগরে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন চাষিরা। কম খরচে বেশি লাভের আশায় আমন ধান কাটার পর কৃষকরা উর্বর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। কৃষকের অধিক আয়ের সম্ভাবনা, স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষ অনেক বেশি লাভজনক। পাশাপাশি সরিষা কাটার পর একই জমিতে বোরো ধান আবাদ করা যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি সুবিধা ও আয় নিশ্চিত করে।

কৃষকরা বলেন, বাজারে সরিষার তেলের চাহিদা ভালো থাকায় ন্যায্য দাম পাওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে। তাই হলুদ ফুলের এই সৌন্দর্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে কৃষকের সবুজ স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের আশাবাদ।

কৃষক মোঃ গোলাম নবী বলেন, তিনি ৩০ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরিষার তেল বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন।

কৃষক ইদ্রিস মিয়া জানান, তিনি অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিকে সরিষার বীজ বপন করেছেন। তার আশা, এ বছর ফলন খুব ভালো হবে। সরিষাসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানো হলে কৃষকরা অধিক উপকৃত হবে।

আকুবপুর ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আকুবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী, কাশিমপুর ও মেটাংঘর গ্রামের বিলে ৬৭০ হেক্টর সরিষা আবাদ হয়েছে। আকুবপুর ইউনিয়নের ১২ জন কৃষক একসাথে ৪৫ বিঘা সরিষার আবাদ করেছেন। কৃষক বাদল মিয়া জানান, তিনি ৪০ শতক জমিতে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ করে সরিষার আবাদ করেছেন। ফসল ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারলে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পাভেল খাঁন পাপ্পু বলেন, আবাদ শুরু হয়েছে। ৮৮৯১ হেক্টর আবাদ হয়েছে। ফলন পাবো জানুয়ারির শেষে, আশা করছি এ বছর ফলন ভালো হবে। আমরা কৃষকদের ভালো ফলন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহায়তায় সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।