তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা চলনবিলের সিরাজগঞ্জ নাটোর ও পাবনার বেড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠছে না। এ অবস্থায় ব্যাপক লোকসানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে ওঠে গত বছরের (২০২৫) ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। তখন শুরুতে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা দরে। কিন্তু এরপর দাম কমতে কমতে একপর্যায়ে প্রতি মণের দাম এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। পরে আবারও দাম বেড়ে প্রতিমণ এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায় পৌঁছায়। এমন দামেই ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলছিল বেচাকেনা। এতে কৃষকের প্রতি মণে দুই থেকে তিনশ’ টাকা লাভ হচ্ছিল।

এরপর পেঁয়াজের দামে আবরও চরম ধস শুরু হয়। দাম কমতে কমতে বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। ছোট আকারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আরও কমে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে। হাটে এমন দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকেরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেড়া উপজেলায় এবার পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৯৮৮ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার বড়শিলা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম ও রূপপুর গ্রামের কৃষক টিপু বিশ্বাস বলেন, গড়ে প্রতিমণ পেঁয়াজে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার ৬০০ টাকা। অথচ বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আটশ’ থেকে হাজার টাকা মণ দরে। এতে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। চাকলা গ্রামের কৃষক নওশের শেখ আক্ষেপ করে বলেন, ধার-দেনা করে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। এখন পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচই উঠছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন তিনি। বেড়া পৌর এলাকার করমযা চতুরহাটের পেঁয়াজের আড়ৎদার আব্দুল মুন্নাফ জানান, বেশিরভাগ মুড়িকাটা পেঁয়াজ উঠে গেছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। তাই কৃষকেরা পেঁয়াজ তুলেই হাটে নিয়ে আসছেন। রমযানে পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কম থাকে। তাছাড়া নতুন হালি পেঁয়াজ দ্রুত হাটে উঠে যাবে। তাই পেঁয়াজের দাম কমে গেছে।