নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা-তে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দামের ধস নেমেছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় চাষিরা লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন আলু কেজিপ্রতি ৪–৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০০–৫০০ টাকায়। এ দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে দাবি কৃষকদের। অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি থেকে আলু তুলে সরাসরি কম দামে বিক্রি করছেন।
স্থানীয় চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে ৩০Ñ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে খরচ আরও বেড়েছে। কিন্তু বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। ফলে অনেকেই ঋণের চাপ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি মৌসুমে উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে আলুর সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গেছে। এছাড়া হিমাগারে সংরক্ষিত আগের মজুদ আলুও বাজারে আসায় দাম আরও চাপের মুখে পড়েছে। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
উৎপাদন বেশি হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় নবাবগঞ্জের আলু চাষিদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। দ্রুত বাজার স্থিতিশীল না হলে অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। উল্লেখ্য গত বছরের আলুর লোকসানের ভূতকীর অর্থ প্রান্তিক কৃষকগণ এখনও পাননি বলে জানা যায়।