মোহাম্মদ আলী সানু, ডিমলা (নীলফামারী) : তিস্তা নদীর চরে বিস্তীর্ণ খসখসে বালুময় জমি—যেখানে একসময় ফসল ফলানোর কথা কল্পনাও করা যেত না—সেই জমিতেই এখন সবুজ লতাপাতার মাঝে ঝুলছে গোলগাল তরমুজ। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও নিয়মিত তদারকির ফলে ডিমলা উপজেলার টিপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে তরমুজ চাষে কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার আলো জেগেছে।
স্থানীয় কৃষক বেলাল হোসেন এ মৌসুমে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। একইভাবে কৃষক নাসির উদ্দীন চাষ করেছেন ৪৫ বিঘা জমিতে। তাদের মতো আরও অনেক কৃষক এবার তিস্তার চর এলাকায় তরমুজ চাষে যুক্ত হয়েছেন। কৃষকদের ভাষ্য, গত মৌসুমে ভালো লাভ হওয়ায় এবার আবাদ আরও বেড়েছে। ফলন ভালো হলে আবারও লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।
কৃষক বেলাল বলেন, “আগে এই বালুচরে কিছুই হতো না। কৃষি অফিসের পরামর্শে তরমুজ লাগাই। গতবার লাভ হইছে, তাই এবার বেশি জমিতে করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, তিস্তার চরাঞ্চলের বেলে মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক সময় বপন, উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছে।
তিনি বলেন, “কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা মাঠ দিবস, পরামর্শ সভা ও সরাসরি জমি পরিদর্শন করছি। তরমুজ এখন এই অঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হয়ে উঠছে।”
চাষাবাদ, বিপণন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা—সব মিলিয়ে কৃষি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে তিস্তার চরের অনাবাদি বালুময় জমি এখন লাভজনক কৃষি জমিতে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের বিশ্বাস, এভাবে কৃষি সমৃদ্ধ হলে শুধু তাদের জীবনমানই বদলাবে না, দেশ গঠনের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই চরাঞ্চল।