বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় রেকর্ড পরিমান জমিতে এবারে (লাইলা) পেঁয়াজচাষ হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে গত কয়েক বছর লাভ দেখে এবারে বেশী জমিতে কৃষকরা পেঁয়াজচাষ করেছে। পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও দাম কমে চাষের খরচ মিলছে না। দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন ও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানীতে পেঁয়াজের দামে ধস নেমেছে। ১মন (৪০ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কেজি মাছও মিলছে না। শ্রমিকের মজুরি দিতে না পেরে মাঠে মাঠে পেঁয়াজ পড়ে রয়েছে। পেঁয়াজের দাম না পেয়ে এলাকার কৃষকদের মধ্যে আহাজারি দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারার তাহেরপুরের পেঁয়াজের সুনাম দেশ জুড়ে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই অঞ্চলের পেঁয়াজ দেশের বাইরে বেশ কদর। এবারে চলতি মওসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমান পেঁয়াজচাষ হয়েছে। উপজেলায় ৪ হাজার একশত ২২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়। এবারে আবহাওয়া পেঁয়াজচাষে অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজচাষে যে পরিমান টাকা খরচ হয়েছে দাম কমে তা খরচ জুটছে না বলে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

তারপরও পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোন সুযোগ না থাকায় কৃষক লোকসান দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে দাম কমে মজুরী খরচ না পেয়ে অনেক কৃষক জমি থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন করছেন না।

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে সেখানে মওসুমের পেঁয়াজে বাজার ভরপুর। প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১৬/১৭ টাকা ও মানভেদে এই পেঁয়াজ পাইকারী বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মন (৪০ কেজি) দরে বিক্রি হচ্ছে। একই ভাবে আলুর দর পতন ঘটেছে। উপজেলার বালানগর গ্রামের কৃষক আশরাফুল জানান, কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচ উঠছে না। পেঁয়াজচাষি আতাউর রহমান, সাহেব আলী, আমীন আলীসহ কয়েকজন কৃষক জানান, ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজচাষে ২৫/২৬ হাজার টাকা খরচ হয়। এতে বিঘায় ৭০/৭৫ মন পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও বীজ, সার সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক মিলে যে খরচ তা বিক্রি করে বিঘায় ১৫ হাজার টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে। বালানগর গ্রামের পেঁয়াজচাষী জয়েন উদ্দিন বলেন, জমি থেকে ১মন পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে ১ কেজি গরুর গোস্ত কিংবা মাছও মিলছে না।

কৃষকরা আক্ষেপ করে বলেন, বাজারে পেঁয়াজের কোন সময় দাম বাড়লে হৈ চৈ পড়ে। এখন পেঁয়াজের বাজারের দর পতন কেউ কথা বলছে না। এলাকার অধিকাংশ কৃষক ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজচাষ করে টাকা তুলতে না পেরে কৃষকদের মাতায় হাত উঠছে। একই ভাবে আলু নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি মন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। এতে জুটছেনা লাভ গুণতে হচ্ছে বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকশান।

কৃষকরা দাবি করে বলেন, বাগমারা একটি কৃষক প্রধান এলাকা। এখানে ব্যাপক হারে আলু ও পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এখানে আলু সংরক্ষনের জন্য কোল্ড ষ্টোরেজ থাকলেও পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় চাষীরা বেকায়দায় পড়ে। এলাকায় পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে এছাড়া ভারতের আমদানী করা পেঁয়াজের বাজারে একেবারে ধস নেমেছে। এদিকে ১মন পোঁজের স্থানে দুই কেজি ঢলন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত দুই কেজি পেঁয়াজ বেশী নেয়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চাষিরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাগমারায় পেঁয়াজ চাষের জন্য এখানকার মাঠি ও আবহাওয়া বেশ অনুকুল থাকায় এখানে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়। এই পেঁয়াজ বেশ মানেও ভাল হওয়ায় তা দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী হয়ে থাকে। এবারে বেশী উৎপাদনে বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ বেশী আসছে। ফলে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। এছাড়া বাগমারায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। এছাড়া বেসরকারী বা ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ পেঁয়াজ সংরক্ষণের আগ্রহী হলে তাকে পরামর্শ সহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।