হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : তামাক চাষ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়া সত্বেও খরচ কম, ফলন বেশি এবং ভালো দাম পাওয়ায় মানিকগঞ্জের ঘিওরে সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তামাক চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। এতে করে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি।

মানিকগঞ্জের যেসকল বিস্তীর্ণ জমিতে কয়েক বছর আগেও ধান, গম, ভুট্টাসহ নানা জাতের ফসলের আবাদ হতো সেখানে এখন আবাদ হচ্ছে শুধু তামাকের। কৃষিজমিতে তামাক চাষের ফলে একদিকে কমে যাষ্টেয় খাদ্যশস্য উৎপাদন,অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ

হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। সম্প্রতি ঘিওর উপজেলার আশাপুর এলাকায় সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়,দিগন্ত জোড়া শুধু তামাকের সবুজ সমারোহ।

কথা হয় আশাপুর গ্রামের তামাক চাষ আবুল কাশেম এর সাথে। তিনি বলেন,আমি তামাকের পাশাপাশি ভুট্টা, কাঁচা মরিচ সহ অন্যান্য ফসলাদি চাষ করে থাকি।এখানকার জমিতে তামাক ছাড়া অন্য কোন ফসল তেমন হয় না। ভুট্রা চাষে বিঘা প্রতি যে টাকা খরচ হয় তাতে লেবার খরচ বাদ দিয়ে খুব একটা লাভ পাওয়া যায় না।কিন্তু তামাকে সমস্ত খরচ বাদ দিয়াও কিছু লাভ থাকে।

এই কারণে এই অঞ্চলের মানুষ তামাক চাষ করে থাকে। তিনি আরো বলেন,এই অঞ্চলে এক ফসলি জমি

বর্ষায় পানি উঠে। কার্তিক মাসের শেষে পানি শুকিয়ে যায়।কার্তিক মাস শেষে যদি ভোট্রা চাষ করা হয় ওই ভোট্টা ততখানি সাবলম্বী হয় না। ভোট্রা চাষের প্রকৃত সময় কার্তিক মাসের প্রথম সপ্তাহ। তামাক যেমন অগ্রাহায়ন মাসের শেষেও বোনা যায় তারপরও বিঘা প্রতি খরচ বাদে ২০/ ৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে। কিন্তু ভুট্টা সর্বসাকুল্যে বিক্রি হয় মাত্র ৩০ হাজার টাকা।এখানে সার বীজ শেচের পানি ইত্যাদির খরচ রয়েছে।

ভুট্টায় তেমন লাভ হয় না।তামাক লাভজনক বলে এই অঞ্চলের মানুষ তামাক চাষে আগ্রহী বেশি।

তামাক চাষী সালাম মাদবর “দৈনিক সংগ্রামকে” জানান, এ বছর তিনি সাত বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এই জমিতে এক সময় মাসকলাই, খেসারি, পায়রা,গমসহ অন্যান্য ফসল বুন্তাম।কিন্ত এইসব ফসলের তুলনায় তামাকে বেশি লাভ হওয়ায় এখন তামাক চাষ করি। তামাক চাষে প্রতি পাখিতে খরচ বাদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকে। তিনি আরো বলেন, আমাদের এলাকার মানুষ আগে খুব অভাবি ছিল। এখন তামাক চাষ করে অভাব দূর হয়ে গেছে। এখন তারা সাবলম্বী।

তামাক চাষী মোহাম্মদ ফারুক মিয়া বলেন,এবছর তিনি নয় বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে তিন লাখ টাকা ৭ লাখ টাকার তামাক বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি। তিনি বলেন, তামাক চাষ ক্ষতিকর। কিন্তু অন্যান্য ফসলের তুলনায় তামাকে লাভ বেশি হওয়ায় আমরা তামাক চাষ করে থাকি।

হ্যান্ডগ্ল্যাভস ও মাস্ক ছাড়া তামাক পাতা শুকানোর বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ্যে অনিষ্টয়ুক এক গৃহিণী বলেন,আমি গ্রামের মানুষ, পড়ালেখা তেমন জানি না। তবে তামাক পাতা খালি মুখে নাড়াচাড়া করলে মাথা ঘুরায়,অনেক সময় বমি বমি ভাব হয়। কৃষি সম্পাসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, এবং সাটুরিয়া উপজেলা সহ তিনটি উপজেলায় ব্যাপক তামাক চাষ হয়ে থাকে। গতবছর এ জেলায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছিল। এ বছর ৩৫৫ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে।যা গেল বছরের তুলনায় দশ হেক্টর কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচারনা করার ফলে এ বছর তামাকের আবাদ কম হয়েছে। সর্বশেষ ৩৫৫ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তামাক চাষ অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই, তামাক চাষিরা যাতে তামাক চাষ না করে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা চাষ্টিয় আখ, পেঁয়াজ, এবং গাজরের মত উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদন করা হোক। এ সমস্ত কৃষকদেরকে উঠান বৈঠকে,বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তামাকের ক্ষতিকর বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করছি।