বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানি ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত পৃথক বৈঠক করেছেন। বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দফতরে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো গেলে উভয় দেশই লাভবান হবে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে। এসব বাধা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

তিনি জার্মানিকে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও লেদার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মানি আগ্রহী। তিনি বাজারমুখী খাতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, সুইডেনের সঙ্গে বাণিজ্যে বিদ্যমান নন-ট্যারিফ বাধা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, টেলিকম খাতে সুইডেন বিশ্বে অগ্রণী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশেও টেলিকম খাতে বিনিয়োগে সুইডেন আগ্রহী।

বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।